মেদিনীপুরে পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে রাখি তৈরীর কর্মশালা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ আগস্ট: ডিজিটাল যুগে সবকিছুতেই এসেছে ঝাঁ চকচকে লুক, কমে গিয়েছে হস্তশিল্পের ছোঁয়া। কচিকাঁচাদের সৃজনশীল মানসিকতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশের জন্য প্রতিবছরের মতো এ বছরও মেদিনীপুর সদর ব্লকের পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আজ আয়োজন করা হয়েছিল রাখি তৈরীর এক কর্মশালা। বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষক কৌশিক কুমার লোধ জানালেন, আজ উপস্থিত ১০০-রও বেশি ছাত্র-ছাত্রী হাতে-কলমে তৈরি করেছে প্রায় এক হাজারেরও বেশি রাখি। প্রচলিত রাখির পাশাপাশি গাছ এঁকে ও স্লোগান লিখে সবুজায়নের বার্তা দেওয়া রাখিও তৈরি করেছে কচিকাঁচারা।

সহ শিক্ষক অসীম কুমার মন্ডলের কথায়, এই রাখি যেমন মানব ঐক্যের বন্ধনকে মজবুত করবে ঠিক তেমনি গাছের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করবে বলে আশা রাখছি।

পার্শ্ব শিক্ষক শিক্ষিকা গোপীনাথ বাস্কে ও মামনি বেসরা বলেন, হাতের কাজের ক্লাসে কচিকাঁচাদের কিছু রাখি তৈরির কৌশল শিখিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর সকলে মিলে আরও বিভিন্ন ধরনের রাখি তৈরি করেছে। ওদের এই আনন্দ সহকারে কাজ দেখে খুব ভালো লাগছে।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সৌম্য সুন্দর মহাপাত্র বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন আজ একটা বড় সমস্যা, যা থেকে মুক্তি দিতে পারে আমাদের বন্ধু গাছ। বই থেকেও কচিকাঁচারা যেমন জেনেছে গাছ কিভাবে আমাদের উপকার করে, ঠিক তেমনি এই কর্মশালাতে তারা হাতে-কলমে তা জানল। হাতে কলমে শিক্ষা সর্বদাই দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাই আমাদের আশা এভাবেই গাছ ও মানুষের সম্পর্ক মজবুত করবে কচিকাঁচারা।

আর কচিকাঁচাদের কথায় আমরা যেমন আনন্দ সহকারে রাখি বানিয়েছি তার পাশাপাশি শিক্ষক মহাশয়দের সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তুলেছি সবুজ ক্লাব। আমরা আজ শপথ নিয়েছি গাছকে বন্ধু হিসেবে আগলে রাখব এবং এই ক্লাবের সকল সদস্যরা প্রতিটি গ্রামবাসীকে গাছ বাঁচানোর বার্তা শোনাবো এবং গাছের উপকারিতার কথা ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেবো। তাই কবির কথায়—
“আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে? তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *