“তলব এড়িয়েছেন রাজীব, রাজভবন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো বন্ধ খামে পরমাণু বোমা না মিশাইল আছে?” কোন ইঙ্গিত দিলেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ৫ জুলাই: পঞ্চায়েত ভোটের আগে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে যাওয়া রাজ্যের একাধিক ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসে রিপোর্ট তৈরি করেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। মঙ্গলবার সেই রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করতে কমিশনের রাজীব সিনহাকে তলব করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তিনি তলব এড়িয়েছেন। এরপরই একটি মুখ বন্ধ খাম রাজভবন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গেছে। সেই খামে কি আছে সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা।

তারই মধ্যে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, মুখ বন্ধ খামে কমিশনারের জন্য পরমাণু বোমা না মিশাইল গেছে সেটা কমিশনের মাথাই বলতে পারবেন।

রাজ্যপালের পাঠানো মুখ বন্ধ খামে কি আছে? এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্যপাল কি সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা তিনি বলতে পারবেন। আমি বলতে পারব না। তবে আমি যতদূর জানি, তিনি একটি খাম বন্ধ নোট রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মাথাকে পাঠিয়েছেন। তাতে কি লেখা আছে? যেহেতু খাম বন্ধ সেটা আপনিও জানেন না আমিও জানি না। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মাথা যিনি আছেন তিনি বলতে পারবেন যে খামে আসলে কি রয়েছে। কি গেছে পরমাণু বোমা গেছে নাকি মিসাইল গেছে।”

আর সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য থেকেই অনেকে মনে করছেন এই বন্ধ খামে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কড়া বার্তাই পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল এবার একেবারে সময় বেঁধে দিয়েছেন। রাজ্যপাল হিংসা কবলিত সেইসব এলাকা ঘুরে এসে যে রিপোর্ট তৈরি করেছেন সেই রিপোর্ট খামে ভরে পাঠিয়েছেন। রিপোর্টে যেসব অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে তা সমাধান করার জন্য কমিশনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন রাজ্যপাল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব সমস্যার সমাধান চেয়েছেন তিনি বলে সূত্রের খবর।

ভোটের আগে যে অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে কোচবিহার থেকে ক্যানিং ছুটে গিয়েছেন রাজ্যপাল। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন নিজে। সেখানে গিয়ে যা দেখেছেন, শুনেছেন তার ভিত্তিতে ফিরেই রাজভবনে এসে রিপোর্ট তৈরি করেছেন রাজ্যপাল। তারপরই তিনি রাজীব
সিনহাকে তলব করেন। কিন্তু ব্যস্ত আছেন বলে কমিশনার তলব এড়িয়েছেন। এরপর মুখ বন্ধ খাম পাঠানো হয়েছে।

অনুমান করা হচ্ছে রাজ্যপাল কমিশনারকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কমিশনের ভূমিকা কি হওয়া উচিত। ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর একমাত্র কমিশনই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে। সেটাও রাজ্যপাল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর মনোনয়ন পর্ব থেকেই অশান্তির অভিযোগ সামনে আসে, একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এহেন পরিস্থিতিতে কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল। পরে তিনি নিজেই জেলায় জেলায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উত্তরবঙ্গ থেকে সফর শুরু করেন রাজ্যপাল। পরে ক্যানিং ও বাসন্তী পরিদর্শন করেন। রাজভবনে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি পিস রুম খোলা হয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়ত যেসব অভিযোগ আসছে তা কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যপালের এই তৎপরতাকে ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল। বরং তৃণমূলের তরফে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে কমিশনে চিঠিও দিয়েছে শাসক দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *