আমাদের ভারত, ২৮ জুন:হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অপসারণের দাবি বার কাউন্সিলের নয়। তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অশোক দেবের দাবির পাল্টা চিঠি পৌঁছল এবার দেশের প্রধান বিচারপতির এনবি রামান্নার কাছে। বার কাউন্সিলের অন্তত ৭ জন আইনজীবী অশোক দেবের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য চিঠি দিয়েছেন।
নারদ মামলা নিয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের অপসারণের দাবি করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির অপসারণের দাবি করেছেন। কিন্তু বার কাউন্সিলের একটা বড় অংশের আইনজীবীরা জানিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যানের সঙ্গে তারা কখনোই একমত নন। এই চিঠি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত পদক্ষেপ। চিঠির বিষয়ে বার কাউন্সিলে কোনো আলাপ আলোচনা করা হয়নি বলেও তাদের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বার কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য আইনজীবী সমীর পাল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অশোক দেব বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশ অমান্য করেছেন। এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা দরকার বলেও দাবি করেছেন তিনি। এরপর অশোক দেবের চিঠির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নাকেও চিঠি দিয়েছেন আইনজীবী সমীর পাল সহ বার কাউন্সিলের ৭ জন সদস্য।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অশোক দেব যে চিঠি দেন তাতে তাঁর অভিযোগ ছিল, নারদ মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ থেকে সরানোর আর্জি জানানো হলেও সেটা অগ্রাহ্য করেন বিন্দাল। তার পরেই অবিলম্বে বিন্দালের অপসারণের দাবি জানান অশোক দেব।
এরপর সেই চিঠি ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়। সমীর পাল, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, মিহির দাস বার কাউন্সিলের ৭ সদস্য দেশের প্রধান বিচারপতিকে আলাদা করে চিঠি দেন। তাতে লেখা হয় কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের অপসারণ চেয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত যে চিঠি দিয়েছেন তা আসল বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি ঘৃণাপূর্ণ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারপতির বিরুদ্ধে এই ভাষা প্রয়োগ করা যায় না বা কোনো আইনজীবীর তা করার একতিয়ার নেই। বার কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই চিঠির বক্তব্যের সাথে একমত নন।
এই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এই চিঠির সঙ্গে বার কাউন্সিলের কোনও সম্পর্ক নেই। অশোক দেব কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই চিঠি পাঠিয়েছেন। রাজ্য বার কাউন্সিলের লেটারহেড ব্যবহার করে চিঠি পাঠানোর জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও বিচারপতির অপসারণ চেয়ে চিঠি দেওয়ার কোনো একতিয়ার নেই। বার কাউন্সিলের পদাধিকারী রাজ্যের শাসক দলের হাতের পুতুল হয়ে বার কাউন্সিলকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ আইনজীবী সমীর পালদের। দেশের প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অন্যতম আইনজীবী সমীর পাল জানান, “বার কাউন্সিলের কোনো লেটারহেডে অশোকস্তম্ভ থাকতে পারে না। চেয়ারম্যান সেটা করেছেন। বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে এটা করতে পারেন না তিনি। এটাও তার অন্যতম একটি ভুল। চেয়ারম্যান তাদের কোনো বৈঠক না ডেকেই একা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠি দিয়েছেন যা অনৈতিক বলেও মনে করছেন তিনি।
বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান অশোক দেবের এই চিঠি বিচার ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকারক বলে মনে করেছেন আইনজীবী তথা জাতীয় কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ। তার কথায়, এটি ব্যক্তিগত চিঠি, বার কাউন্সিলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই”।
আইনজীবী ও বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের এই ধরনের আপত্তিকর চিঠি লেখার কোনও অধিকার নেই। চিঠির লেখককে অবশ্যই কোনো চিঠি লেখার আগে তার আইনসম্মত অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে। তিনি যদি কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে চান তবে পদ ছাড়ার পর তা করতেই পারেন।” চিঠির লেখকের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির স্বতপ্রণোদিত অবমাননার মামলা করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

