আমাদের ভারত, ৭ আগস্ট: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর তার পুরনো দলে ফিরে যাওয়ার অনুমানই যেন সত্যি হতে চলেছে। ইতিপূর্বেই স্বপুত্র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। এই সাক্ষাৎকার মুকুলের মতই রাজীবেরও ঘর ওয়াপসির স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে দেখা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩০ মিনিটের সেই সাক্ষাতে সম্ভবত দলে ফেরা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে মনে করছে ঘনিষ্ঠ মহল।
একুশে নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের একঝাঁক প্রভাবশালী নেতা নেত্রী। সেই দলে মুকুল রায়ের মত রাজীবও ছিলেন একজন। নির্বাচনে ডোমজুরে ৫০ হাজার ভোটে হেরেছেন তিনি। সেই থেকেই বিজেপির অধিকাংশ কর্মসূচিতেই দেখা যায়নি তাঁকে। মুকুলের সাথে জুন মাসের বিজেপির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন রাজীবও।
সেই থেকেই এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
তারপর বহু বার রাজীবের দেখা মিলেছে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাদের ঠিকানায়। প্রথমে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে করেন তিনি। মা প্রয়াত হলে পার্থ চ্যাটার্জির বাড়ি যান তিনি। মুকুল রায়ের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁর বাড়িতেও যান রাজীব। যদিও সেই সাক্ষাৎগুলিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করেছিলেন উভয়পক্ষ।
শুধু সাক্ষাৎ নয়, বিজপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোস্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য পোস্টও করেছেন তিনি। সম্প্রতি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেন ফেসবুকে। আর এই ক্রিয়াকলাপগুলি বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুলের দিকে যাওয়ারই পথ প্রশস্থ করেছে। তবে রাজীবের দলে ফেরা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল তৃণমূলের একাংশ। তাই শুক্রবার সোজা অভিষেকের কাছে পৌঁছে যান তিনি। যদিও এ বিষয় এখনো পর্যন্ত কোন পক্ষই মন্তব্য করেনি। ঘাসফুলে রাজীবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুখ খোলেনি তৃণমূলও।

