আমাদের ভারত, ১৬ মার্চ: রেল ভারত সরকারের হাতেই থাকবে। কখনোই রেলের বেসরকারিকরণ হবে না। সংসদে এমনটাই বলেছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। আজ লোকসভায় রেলের অনুদান সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ভারতবাসীর সম্পত্তি এই রেলের বেসরকারিকরণ কখনোই হবে না। শুধু আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রেলে বেসরকারি বিনিয়োগ করা হবে।
এর আগে বিরোধীরা সরব হয়েছিল মোদী সরকার রেলের বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে রেলমন্ত্রী বলেন রাস্তায় বেসরকারি গাড়ি চলে তার প্রতিবাদ কেউ করে না। কারণ সরকারি গাড়ির পাশে বেসরকারি গাড়িও মানুষকে সুবিধা দেয়। তবে রেলের বেসরকারিকরণ হবে না। রেলের আয় বাড়াতে ও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে রেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
রেল মন্ত্রী আরোও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ হলে ভারতীয় রেলের পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে। যাত্রীদের উন্নত মানের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। রেল মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র যদি একসাথে হাত মেলায় তাহলে রেলের আয় বাড়বে। পিপিপি মডেলে ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী।
পীযূষ গোয়েল দাবি করেন, ২০১৯ সালের মার্চ মাসের পর থেকে রেল দুর্ঘটনায় ১ জনেরও মৃত্যু হয়নি। যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দিকে এখন বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে রেলের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রেল সূত্রে খবর অনুযায়ী, গত বছর থেকেই ভারতীয় রেলে বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়। জানা গিয়েছিল, রেলের কোচ থেকে শুরু করে সেগুলি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লগ্নি করবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। ১৫১টি আধুনিক যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে বেসরকারি সংস্থার কাছে দরপত্র চেয়েছিল রেল। ট্রেনগুলি দেশের ১০৯ জোড়া রুটে চলবে। ইতিমধ্যেই সেইসব রুটও চিহ্নিত করেছে সরকার। এছাড়া দিল্লি-মুম্বাই এবং লুধিয়ানা-ডানকুনি ডেডিকেটেড ফ্রেড করিডোর চালু হয়ে গেলে বেসরকারি উদ্যোগে ট্রেন চালানোর জন্য রুটে সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের আশা এই প্রকল্পে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করবে বেসরকারি সংস্থাগুলো।
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন ৯০টি স্টেশনে বেসরকারি বিনিয়োগ করা হবে।

