স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৬ ডিসেম্বর: অবশেষে অভিযুক্ত অধ্যাপককে বহিষ্কার করল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার সকাল থেকেই অভিযুক্ত ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক তাপস পালকে বহিস্কারের দাবীতে সরগরম হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।
এদিন সকাল থেকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জমায়েত হন আইন বিভাগের পড়ুয়ারা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সুবিচারের দাবীতে সরব হন তারা। পাশাপাশি প্রথমেই অভিযুক্ত অধ্যাপককে বহিষ্কারের দাবী তোলা হয়। আন্দোলনকারিরা জানান, তাপস পাল যেভাবে দিনের পর দিন তার স্ত্রী অর্থাৎ আইন বিভাগের অধ্যপিকা ময়ূরিকা রায়ের উপরে নির্যাতন চালিয়েছে তা নিন্দনীয়। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগের ছাত্রীদের সাথে অভব্য আচরণ সংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠে আসছে সেক্ষেত্রে তার কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এই আন্দোলন চলাকালীনই সোমবার তড়িঘড়ি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগ ও আদালতের নির্দেশিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এরপর তাপস পালকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ঐ অধ্যাপককে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেন রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন উপাচার্য্য। সেই সঙ্গে ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়টি দেখছেন বিভাগীয় প্রধান।
প্রসঙ্গত, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাপস পালে বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকেই নানান অভিযোগ উঠেছিল। তবে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে বধূ নির্যাতন কান্ড। নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার শাস্তির দাবীতে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের বাসিন্দা তাপস পালের স্ত্রী ময়ূরীকা রায়। বহিষ্কারের পরই গ্রেফতার হন এই কীর্তিমান অধ্যাপক।

