রায়গঞ্জের সুপ্রিয়া কান্ড! তদন্তে নেমে রহস্যের জাল খুলল পুলিশ

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৭ নভেম্বর: রায়গঞ্জের সুপ্রিয়া হত্যাকান্ড! গত ১১ই নভেম্বর শুক্রবার রায়গঞ্জ শহরের রবীন্দ্রপল্লীতে বাড়ির মধ্যেই নৃশংস ভাবে খুন হন সুপ্রিয়া দত্ত। তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়িতে স্বামী ও সন্তান অনুপস্থিত ছিলেন। দুষ্কৃতি গলার নলি কেটে দিয়েছিল মহিলার। সন্ধ্যে নাগাদ খবর পেয়ে পুলিশ আসে। জনবহুল এলাকায় বাড়ির মধ্যে এমনভাবে খুনের ঘটনা ঘিরে হতবাক তন্তকারী অফিসারেরা।

পুলিশ কুকুর দিয়ে শুরু হয় তল্লাশী। তদন্তে নেমে পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ পায়। যেখানে দেখা যায় রবীন্দ্রপল্লীর গলি থেকে খুনের ঘটনার কিছুক্ষণ বাদে মাস্ক ও টুপি পরিহিত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে বেড়িয়ে যেতে। সেই ফুটজের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরবর্তী কালে ঘটনায় উঠে এল পরকিয়া তত্ব। পুলিশের দাবী, সুপ্রিয়া দত্তের সাথে প্রবাল সরকারের পরকিয়া সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতেই তৎপরতার সাথে ময়দানে নামে পুলিশ।

এদিকে সূত্রের খবর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নিজের রূপ বদলাতে মাথা ন্যাড়া ও দাঁড়ি কামিয়ে ফেলে প্রবাল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বুধবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় প্রবাল। বুধবার তাকে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার একটি হোটেল থেকে ইনটেলিজেন্স টিমের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়। রাতেই তাকে সড়কপথে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় ঢোকার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে একেবারেই নিশ্চুপ ছিল অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার ডিএসপি হেডকোয়ার্টার রিপন বল।

পরকিয়া সম্পর্কের জেরেই খুন হয়েছিলেন রায়গঞ্জের সুপ্রিয়া দত্ত। অভিযুক্ত প্রবাল সরকারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সেই তথ্যই মিলেছে বলে এদিন জানান ডিএসপি হেডকোয়ার্টার রিপন বল। ডিএসপি বলেন, তার কাছ থেকে ২ টি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরবাইক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোন মৃত সুপ্রিয়া দত্তের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধৃতকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইপিসির ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। আবেদন মঞ্জুর করে প্রবাল সরকারকে ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন রায়গঞ্জ জেলা আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম কর।

কিন্তু খুনের প্রকৃত কারন কি? সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন নাকি নেপথ্যে আরও অন্য কোনো কারন রয়েছে তা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে। হেফাজতে নেওয়ার পর এখন এই ব্যপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *