পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একপ্রকার প্রচারে নেমে পড়লো বিজেপি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা এলাকায় বিজেপি পার্টি অফিসে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, জেলা সভাপতি তন্ময় দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিততে তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে কাজের নিরিখে প্রতিশ্রুতি পালন বিষয়ে চার্জশিট আকারে লিফলেট- এর সূচনা করা হয়। সেই চার্জশিট বিধানসভা এলাকায় বিলি করা হবে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার অধীনে একজন বিজেপি ছাড়া বাকি সবই তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা ও শিউলি সাহা। সেই সব বিধায়কদের এলাকা নিয়েই চার্জশিট প্রকাশ করলো বিজেপি।
রাহুল সিনহা বলেন, রাজ্য ইউনিটের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন সেই সব এলাকায় জনস্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে, সেই সব বিধায়কদের এলাকার তথ্য তুলে ধরে চার্জসিট তুলে ধরা হচ্ছে। আগামী একমাস ধরে চলবে এই চার্জসিট বিলি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছে, এবারেও আবার প্রতারণা করতে মাস্টার প্ল্যানের আওয়াজ তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবাধে ও প্রকাশ্যে বালি চুরি হচ্ছে। চুরিও করছে খোলাখুলি ভাবেই। নদী গুলির নাব্যতা যেমন কমছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদী ও তার সঙ্গে যুক্ত লোকদের।
এইআরও সাসপেন্ড প্রসঙ্গে রাহুল সিনহা বলেন, সাতজন সাসপেন্ড হয়েছেন, সংখ্যা আরো বাড়বে। যারা রাষ্ট্রীয় কাজে দলবাজি করেছে তাদের ক্ষমা নেই। এদের জেল, জরিমানা হওয়া উচিৎ। এমনকি চাকরিচ্ছেদ হওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। কমিশন আরোও কঠোর হবে।
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে ইলেকশন ভাতা। বেকাররা বুঝে গেছে। বেকাররা কাজ চায়, ভাতা চায় না। যেহেতু ভাতা দিচ্ছে সেটা তো সরকারের টাকা, জনগণের টাকা, তৃণমূলের টাকা তো নয়। এটা নির্বাচন ভাতা, নির্বাচন চলে যাবে ভাতাও শেষ। সিপিএম বেকার ভাতা চালু করেছিল, কয়েকমাস চালিয়েই উধাও হয়ে গিয়েছে। এটা যে তৃণমূলের বাঁচার ভাতা সেটা বেকাররা বুঝছে। দেড় হাজার টাকায় বেকারের ভবিষ্যত ও ভোট কিনে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। আমাদের আবেদন, টাকা পাচ্ছেন টাকা নিন, কিন্তু তৃণমূলকে বিদায় দিন। এখানে কোনো শিল্প হবে না, কারণ কোনো ভবিষ্যত নেই। আগামী দিনে বেকারদের ভয়ঙ্কর সঙ্কটের মুখে ফেলা হচ্ছে।
লরি চালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে রাহুল সিনহা বলেন, এরাজ্যে তোলাবাজদের কম্পিটিশন চলছে। তৃণমূল বুঝে গেছে সরকারের আয়ু বেশি দিন নেই। পুলিশও বুঝে গেছে ওদের ইনকামের আয়ুর আর বেশি সময় নেই। তাই নির্বাচনের আগে শেষ লুটের কাজ নেতারাও চালাচ্ছে, পুলিশও চালাচ্ছে। উভয়ে মিলে শেষ খাবার খাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, তৃণমূল আর পুলিশ যারা জন সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তি বানিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়বো না। জনগণের সামনে সেই সম্পত্তি নিলাম করবো আমরা।

