আমাদের ভারত, ২৪ মার্চ: মোদী পদবী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার দায়ে তাকে দু’বছর জেলের সাজা শুনিয়েছে আদালত। আর দু’বছর জেলের সাজা হওয়ার কারণেই রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করে দিলেন লোকসভার স্পিকার। শুক্রবার লোকসভা সচিবালয়ের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে।
মোদী পদবী তুলে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণেই বৃহস্পতিবার গুজরাটের সুরাট জেলা আদালত রাহুল গান্ধীকে দু’বছরের জেল হাজতের সাজা শুনিয়েছিল। তার ভিত্তিতেই ভারতীয় সংবিধানের ১০২(১)ই অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (১৯৫১)-র আট নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাহুল গান্ধীর সংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হল। রাহুল অন্তত আগামী ছয় বছর কোনো ভোটে লড়তে পারবেন না।
সুরাট জেলা আদালতের বিচারক এইচ এইচ বার্মা রাহুলকে দশ হাজার টাকার জামিনে মুক্তি দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত করার উপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত বলছেন, এই কারণেই কংগ্রেস সাংসদের পদ রক্ষা করা সম্ভব হলো না।২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়, ঘটনাচক্রে এক দশক আগে ওই রায়কে কার্যকর করার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন রাহুল নিজেই।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাংসদ বিধায়কের দু’বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হলে তৎক্ষণাৎ সংসদ বা বিধায়ক পদ চলে যাবে। আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সেই হিসেবে রাহুলের সাংসদ পথ অবিলম্বে খারিজ হবার ছিলই। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে আগে বলা ছিল সংসদ বিধায়ক দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের স্থগিতাদেশ পাওয়ার জন্য তিন মাস সময় পাবে। কিন্তু ২০১৩ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার বনাম লিলি টমাস মামলায় আইনের সেই ধারাটিকে নাকচ করে রায় দিয়েছিল দু’বছরের কারাদণ্ডে সাজার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সাংসদ পদ চলে যাবে।
পশু খাদ্য কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত লালু প্রসাদের সাংসদ পদ বাঁচাতে মনমোহন সিংয়ের সরকার অধ্যাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিয়ে পুরানো ব্যবস্থা বহাল রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাহুল নিজেই সেই অধ্যাদেশ ছিঁড়ে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দেওয়ার কথা বলার পর পিছু হটেছিল তৎকালীন ইউপিএ সরকার। এবার সুপ্রিম কোর্টে ২০১৩ সালে সেই নির্দেশিকার ভিত্তিতেই সাংসদ পদ খারিজ হল খোদ রাহুলের।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কর্ণাটকের প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “সব চোরেদের মোদী পদবি হয় কেন?” আইপিএল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ললিত মোদী, ব্যাঙ্ক ঋণ মামলায় পলাতক নীরব মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর তুলনা করেছিলেন রাহুল। ওই ঘটনায় রাহুলের বিরুদ্ধে পদবী অবমাননার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ এবং ৫০০ ধারায় অপরাধমূলক মানহানি মামলা করেছিলেন গুজরাতের বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী। সেই মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হন রাহুল গান্ধী।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সব বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আন্দোলনের পথে নেমেছে কংগ্রেস। শুক্রবার দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ১২টি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাম, জেডিউ, ডিএমকের পাশাপাশি বৈঠকে ছিল আম আদমি পার্টিও। এর পরই সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান তারা।

