আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচিত সংসদ ও বিধায়কদের মেয়াদ শেষের আগেই ভোটারদের হাতে তাদের প্রত্যাহারের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাইট টু রিকল বা প্রত্যাহারের অধিকার চালুর পক্ষে সওয়াল করেন।
রাঘব চাড্ডার বক্তব্য, বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের কোনো কার্যকর মূল্যায়ণ বা জবাবদিহির কাঠামো নেই। তাঁর কথায়, ভোটের আগে নেতা জনতার পেছনে ঘোরে, আর ভোটের পর জনতা নেতার পেছনে ঘোরে। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদকে তিনি আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দীর্ঘ বলেও উল্লেখ করেন। ভুল ব্যক্তিকে নির্বাচিত করলে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং গোটা অঞ্চল পিছিয়ে পড়তে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
আপ সাংসদের মতে, রাইট টু রিকল কোন
রাজনীতিবিদবিরোধী অস্ত্র নয় বরং গণতন্ত্রের বীমা। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ইমপিচমেন্ট, উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতিদের অপসারণ, সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিধান রয়েছে। সে কথা উল্লেখ করেই রাঘবের প্রশ্ন, তাহলে অচল সাংসদ বা বিধায়কদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হাতে কেন এরকম অধিকার থাকবে না?
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড সহ অন্তত ২৪টি গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাহারের বিধান রয়েছে। ২০০৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্রেড এভিসকে প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বিদ্যুৎ সংকট ও বাজেট পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ স্বাক্ষর করেন এবং বিশেষ নির্বাচনে পঞ্চান্ন শতাংশ ভোটার তার অপসারণে সমর্থন জানান।
ভারতেও স্থানীয় স্তরে এমন বিধান রয়েছে বলে দাবি করেন রাঘব। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের গ্রাম সভার ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাহারের সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করেন। তবে অপব্যবহার ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। অন্তত ১৮ মাস কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরেই প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া যাবে। নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হবে এবং চূড়ান্ত ভোটে কমপক্ষে পঞ্চাশ শতাংশ ভোটারের সমর্থন থাকতে হবে। এমন স্বার্থ রক্ষার কথাও বলেন সাংসদ।
রাঘবের দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলি আরো যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে বাধ্য হবে। অকার্যকর প্রতিনিধিরা বাদ পড়বেন, গণতন্ত্র আরো শক্ত ও পরিপক্ক হবে।

