আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: আজ ভারতের মাটি ছুঁলো ফ্রান্স থেকে আসা রাফাল বিমানের প্রথম ব্যাচের পাঁচটি যুদ্ধবিমান। বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানার আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করে যুদ্ধবিমানগুলি। এটি ভারতের গর্বের এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভারতীয় বায়ুসেনার সিকন্দার আজ রাফাল। দেশের সেনা বাহিনীর ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে তুলল রাফাল বলে টুইট করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
রাফালগুলিকে স্বাগত জানানোর জন্য আম্বালা এসেছিলেন বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভাদুড়িয়া। সকাল ১১ টা নাগাদ আবুধাবিতে ওড়ার পরেই রাফালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আই এন এহ কলকাতা। রাফাল কমান্ডারকে অডিও বার্তায় আইএনসি ডেল্টা ৬৩ আরো বলেন, “ভারত মহাসাগরে স্বাগত গরিমা নিয়ে আকাশে ডানা মেলো”।
Welcome home 'Golden Arrows'. Blue skies always.
The Arrow formation (Rafales) was given ceremonial welcome by SU-30s.#IndianAirForce #RafaleInIndia #Rafale pic.twitter.com/RP0wITfTPZ
— Indian Air Force (@IAF_MCC) July 29, 2020
যে পাঁচটি রাফাল বিমান ভারতে আসছে সেগুলি থেকে মেটিওর এবং স্ক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যাবে। রাফাল যুদ্ধবিমান ওড়ানোর জন্য ফ্রান্স থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দেশের ১২ জন পাইলটকে। ডাবল ইঞ্জিন মাল্টিরোল কমব্যিট ফাইটার এয়ারক্রাফট রাফাল আকাশ থেকে ভূমিতে ও সমুদ্রে নির্ভুল নিশানায় লাগতে পারে। ৯ টনের বেশি যুদ্ধাস্ত্র বইতে সক্ষম রাফাল। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করা,মিসাইল নিক্ষেপ এমনকি পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের।
রাফাল আগমন ঘিরে আম্বালা বায়ুসেনা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আপাতত আম্বালাতেই রাফাল স্কোয়াড্রন থাকবে। সোমবার ফ্রান্স থেকে রাফালের পাঁচটি বিমান নিয়ে রওনা দেয় ভারতীয় পাইলটরা। সাত হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে বুধবার সেগুলি ভারতের মাটিতে অবতরণ করে। মাঝে আকাশে জ্বালানীও ভরিয়েছে বিমানগুলি। মাঝে একবারই অবতরণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। পাঁচটি জেটের মধ্যে তিনটি এক আসন বিশিষ্ট ও দুটি দুই আসন বিশিষ্ট রাফাল।
আম্বালা এয়ার ফোর্স স্টেশনের আশেপাশে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। রাফালের আগমনকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। কোন রকম ছবি তোলা বা ভিডিও শুট করা নিষিদ্ধ ছিল। বায়ু সেনা ঘাঁটির ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন ব্যক্তিগত ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি নেই। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। চলছে পুলিশি টহলদারিও। রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। বাড়ির ছাদ থেকে ভিডিও তোলার চেষ্টা করতেও বারন করে সতর্ক করা হয়েছে।
যে যুদ্ধবিমান গুলি ভারতের এল, তার সবগুলিই সমরাস্ত্রের ঠাসা। আগে থেকেই লাগানো রয়েছে মিসাইল। এককথায় ভারত চিন সংঘাতের পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রইল রাফাল উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য।

