আমাদের ভারত, ১২ মার্চ: লোকসভার বিরোধী দল নেতার পদ থেকে অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে দিল কংগ্রেস। জানা গেছে তার জায়গায় ওই পদে আনা হচ্ছে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার তিনবারের সাংসদ রবনীত সিং বিট্টুকে। বর্তমানে তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের সচেতক। বাংলায় ভোট থাকার কারণে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে রাজ্যে অনেকটা বেশি সময় দিতে হচ্ছে সেই কারণেই তাঁকে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল বলে জানানো হয়েছে। লোকসভার স্পিকারের দপ্তরকে চিঠি দিয়ে এই পরিবর্তনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সেই অনুমতি মিলেছে।ফলে বাজেট অধিবেশনের বাকি দিনগুলোতে অধীর চৌধুরীর জায়গায় সেই দায়িত্ব সামলাবেন বিট্টু।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে একইভাবে অসমের ভোটের কারণে লোকসভার উপদলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংসদ গৌরব গগৈকেও। লোকসভায় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের দায়িত্ব সামলান মোট পাঁচজন। অধীর, গৌরব,কে সুরেশ, মানিক টেগর এবং বিট্টু। আর রবনীত সিং বিট্টু ছাড়া বাকি সকলেই তাদের রাজ্যের ভোট নিয়ে ব্যস্ত এখন। তাই লোকসভায় দলনেতার দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে তাকে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন, সংসদ পরিচালনা করার জন্য যে ৫ জনের কমিটি রয়েছে নির্বাচনের কারণে তাদের মধ্যে চারজন থাকতে পারবেন না। তাদের মধ্যে আমিও একজন। তাই যতদিন সংসদ চলবে ততদিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিট্টুকে। কিন্তু এর অর্থ আমাকে অপসারিত করা হয়েছে তা নয়। কংগ্রেসের এক সূত্রের দাবি বাংলার ভোট মিটলে অধীরকে আবার ঐ পদে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
কিন্তু এর মধ্যেই অন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহত হওয়ার ঘটনায় প্রদেশ সভাপতি যে মন্তব্য করেছিলেন তা সাথে দল একমত না বলে জানানো হয়েছে। নন্দীগ্রামে বিরুলিয়ায় ঘটনার পর অধীর চৌধুরী বলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাটক করছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, প্রদেশ সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ছর সম্পর্কে যা বলেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি হয়তো স্থানীয় কোন সূত্রে খবর পেয়ে ওই মন্তব্য করেছেন।
২০১৯-এ পঞ্চমবার সাংসদ নির্বাচিত হন অধীর। এরপর তাকে লোকসভার দলনেতা করেন সোনিয়া গান্ধী। ৫২ জন জয়ী সাংসদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ তিনি। রাম মন্দির নির্মাণ, সিএএ, ৩৭০ ধারা রদের মতো সব ইস্যুতেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজেকে বারবার পপ্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন অধীর। লোকসভার বিরোধী দলনেতা ছাড়াও তিনি পাবলিক একাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান।
কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ডের অন্য একটি সূত্রের খবর ২০২২-এর
ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশ, মনিপুর, গোয়া, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোট। তার মধ্যে একমাত্র পাঞ্জাবেই পূর্ণশক্তিতে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। ফলে ২০২২-এ পাঞ্জাবে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস। সেইজন্যই পাঞ্জাবের লুধিয়ানার এই পোড় খাওয়া সাংসদকে লোকসভার দলনেতা পদে বসানো হচ্ছে। এছাড়াও তিনি কংগ্রেসের তরুণ মুখ হিসেবেও পরিচিত। তাছাড়া কৃষি বিল নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে জনমত তৈরি হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে নিযুক্ত করা হয়েছে।আর পিকে পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত হবার পরেই অধীরকে সরিয়ে পাঞ্জাবের বিট্টুকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা দায়িত্বে আনল কংগ্রেস।

