ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ফলকে নাম ফিরতে চলেছে রবীন্দ্রনাথের, মুখ্যমন্ত্রীর আন্দোলনের ফল, বললেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা

আশিস মণ্ডল, শান্তিনিকেতন, ১৬ নভেম্বর: ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ফলকে নাম ফিরতে চলেছে রবীন্দ্রনাথের। আর এই জয় মুখ্যমন্ত্রীর আন্দোলনের ফল, বললেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। চলতি বছরের সতেরো সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর শান্তিনিকেতনে ঐতিহ্যবাহী ভবনের সামনে রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দিয়ে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এবং আচার্য নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত ফলক বসে। তারপর সর্বস্তরে প্রতিবাদ হয়। 

বিষয়টি নজরে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম প্রতিবাদ করে আন্দোলনের ডাক দেন। ধর্ণা মঞ্চ করে ২৬ অক্টোবর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয় কবিগুরু মার্কেটে। উপাচার্যর অবসর গ্রহণের পর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের অনুরোধে ৯ নভেম্বর ধর্ণা মঞ্চ তুলে আন্দোলনে ইতি টানার ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনে সামিল হয় তৃণমূল কংগ্রেস, যুব কংগ্রেস, বিশ্বভারতী তৃণমূল কংগ্রেস ইউনিট সহ সমস্ত তৃণমূল শাখা সংগঠন। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা  বলেন, এই জয় মুখ্যমন্ত্রীর জয়। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে প্রতিবাদ করেন। তারপর নির্দেশ দেন আন্দোলন করার। রবীন্দ্রনাথের নাম ফেরাতে কেন্দ্রকে বাধ্য করে মুখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার মানুষ। 

মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক থেকে ফলক সরিয়ে নতুন ফলকের বয়ান সহ ফলক বসানোর নির্দেশ এসে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং এক্সিকিউটিভদের নিয়ে কমিটি গঠন করে ফলক বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেকথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেননি জনসংযোগ আধিকারিক মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন বলে জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইংরেজি ও হিন্দি ছাড়াও বাংলা ভাষায় ফলক বসানোর কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। ফলকে মোদী এবং বিদ্যুতের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে ইউনেস্কো এবং বিশ্বভারতীর ফলকের ডান-বামে রাখতে হবে। মাথার উপর থাকবে জাতীয় প্রতীক। ফলকে উল্লেখ রয়েছে- “১৯০১ সালে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায়। ভারতীয় ধ্রুপদী ঐতিহ্যে লালিত শিক্ষাকেন্দ্র শান্তির নীড়।” ফলকে বিশ্ব মানবতার কথা বলা আছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গেছেন কর্মসচিব অশোক মাহাতো এবং বর্তমান উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক। মূলত বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে এই দুজন দিল্লিতে গেছেন বলে সূত্রের খবর। তবে, কলা ভবনের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর কাছের লোক হলেও, উপাচার্য হওয়ার কদিন আগে সুপ্রিয় ঠাকুরকে আমন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাক্তন উপাচার্যর সঙ্গে সঞ্জয়বাবুর চিত্রনিভা প্রদর্শনী নিয়ে মনোমালিন্য হয়। বর্তমানে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পারবেন। তবে, ইতিমধ্যে পূর্বিতা ঘর খালি করা নিয়ে সেই তিক্ততা চরমে ওঠে। সঞ্জয়বাবু একাধারে ইসি মেম্বার, সিনিয়র প্রফেসর এবং অধ্যক্ষ। তাই স্ট্যাস্টিটিক মেনেই তিনি উপাচার্য। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য কতটা পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেই সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রক না দিলেও, বিষয়টি পরিস্কার হতেই তিনি আলোচনা করতে পারেন, বলে সূত্রের খবর।

যতদূর জানাগেছে, বর্তমান উপাচার্য আইনের বাইরে এক পাও চলেন না। তাই প্রাক্তন উপাচার্যকে আবেদন নিবেদন করে চিঠি দিলেও, পরবর্তী চিঠি বেশ কড়া হবে এমনটাই ধারণা অভিজ্ঞ মহলের। তাই বর্তমান উপাচার্যর উপর যতই রুষ্ট হোন বিদ্যুৎবাবু। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এলে তাকে পূর্বিতা ছাড়তেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *