আদালতের নির্দেশ না মানলে ফল ভুগতে হবে, আরজিকরের বিক্ষোভকারী মেডিকেল পুড়ুয়াদের ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

আমাদের ভারত, ১৫ নভেম্বর: হাইকোর্ট বিক্ষোভ অনশন তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অভিযোগ হাইকোর্টের সেই নির্দেশ না মেনে দিনের পর দিন বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে আর জি কর মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়ারা। সোমবার হাইকোর্টে আরজিকরে অচলাবস্থা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, হাসপাতাল রাজনীতি করার জায়গা নয়। আদালতের নির্দেশ না মানলে তার ফল ভুগতে হবে মেডিকেল পড়ুয়াদের।

আজ মামলার শুনানিতে এডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, অনশনের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসার পরিসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। পড়ুয়াদের হোস্টেলের সব রকম সুবিধা দেওয়ার পরেও তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর জি করে চিকিৎসার জন্য নানা জেলা থেকে রোগীরা আসেন। কিন্তু বিক্ষোভের কারণে অনেক রোগীকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ছাত্রাবাস সংস্কার ও অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিল ডাক্তারি পড়ুয়ারা ও ইন্টার্নরা। গত দুমাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে অধ্যক্ষের ঘরের সামনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে পড়ুয়ারা। কাজ বন্ধ করে তাতে যোগ দেয় কলেজের ইন্টার্নরা। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান চলবে বলে জানিয়েছিল পড়ুয়ারা। অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

কিন্তু হাসপাতালের অচলাবস্থা কাটাতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারী নিজের আবেদনে বলেছিলেন, পড়ুয়ারা বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালে পরিষেবা প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। মুমূর্ষ রোগীর এসে ফিরে যাচ্ছেন। আউটডোরে রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। রোগী ভর্তি করতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এখন করোনার সময় অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি। তাদের পরিষেবা দিতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

মামলাকারীর আবেদন শুনে আর জি করে বিক্ষোভকারী জুনিয়র ডাক্তার ইন্টার্নদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিচারপতিরা। ভরা এজলাসে পড়ুয়াদের সমস্ত অভিযোগ দাবি-দাওয়া শুনে দুই বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত আন্দোলন তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। সমস্যা সমাধান করতে রাজ্য স্বাস্থ্য সচিব নিজে তার দপ্তরে ডেকে পাঠান ডাক্তারি পড়ুয়াদের। কিন্তু তারপরেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। এডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ বাবু বলেন, অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। হাসপাতলে করিডরে খারাপ ভাষায় পোস্টার পড়ছে। অধ্যক্ষ হাসপাতালে ঢুকতে পারছেন না। হাসপাতালে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়নি বরং আদালতের অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। তিনি মঙ্গলবার শুনানির জন্য সময় দেওয়ার আবেদন করেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামীকাল হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *