আমাদের ভারত, ৯ আগস্ট: এই বঙ্গে সংবিধান, আইন, নৈতিকতা আজ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। এই মন্তব্য করে সনাতনীদের জেগে ওঠার আবেদন করলেন সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল।
শঙ্করবাবু বলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ বৎসর পূর্তির আর মাত্র ক‘টা দিন বাকি। অমৃত মহোৎসব পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার ঘর ঘর তেরঙ্গার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অবশ্যই এটা আমাদের গর্বের। কিন্তু আজ এই বঙ্গের বিভিন্ন ঘটনাবলী সম্পূর্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কয়েকটি শব্দকে। সেটা হল সংবিধান, আইন, নৈতিকতা। এগুলোর কি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কোনও মূল্য আছে?
আইন কতকগুলো প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই তার রায় দিতে বাধ্য। আর সে কারণেই আসানসোল আদালতে সিবিআই চার্জশিট পেশ করলে সেখানে সায়গল হোসেনের নাম দিলেও অনুব্রত মণ্ডলের নাম দিতে পারলো না। সায়গল একটা অনুব্রতর বোরে ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু প্রমাণ চাই, ঠিক যেমন প্রমাণ পাওয়া মুশকিল অনুব্রতর গরু, বালি, পাথর ও কয়লার টাকার ৭৫% যিনি আদায় করতেন তাঁর আসল পরিচয়।
আইনের পক্ষে যতটুকু তথ্যভিত্তিক আদেশ দেওয়া সম্ভব তার ওপর ভিত্তি করেই ১৯ জনের সম্পত্তির পরিমাণ কি করে বিপুল বৃদ্ধি পেল তার তদন্ত করার নির্দেশ এসেছে। এঁদের মধ্যে দু জন অবশ্য বর্তমানে জীবিত নেই। এ ক্ষেত্রে অপরাধ নেবেন না, নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা নিয়ে আমার একটা অভিযোগ আছে। কারণ একজন প্রার্থী যখন তাঁর সম্পত্তির হিসাব পেশ করেন তখন কমিশন কেন সেগুলো যাচাই করে না? তা নাহলে নাকতলার বুকে দেড় কাঠা জমির ওপর একটা বাড়ির মূল্য মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনও আপত্তি করে না?
এইভাবে আজ এক একজন নেতার ৫ বছরে হাজার গুন সম্পত্তি কি করে বাড়লো তার তদন্তের জন্য ইডিকে পক্ষ করে রায় দিল আদালত। হ্যাঁ, এটা একটা ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু সেখানেও এই ব্যাপারে কতটা শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যাবে এঁদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সেটাও সন্দেহজনক। কারণ এঁদের পেছনে রাষ্ট্রক্ষমতার মদত রয়েছে।
আমি তো একজনকে জানি, যিনি একটা বটতলার উকিল ছিলেন, কেবল রাজনীতি করে তিনি এখন মন্ত্রী আর তিনি বর্তমানে তাঁর জেলার অন্যতম ধনী। সুতরাং নৈতিকতা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে একটা অবাঞ্ছিত শব্দ। সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতা মন্ত্রী তো বটেই, এই রাজ্যের প্রশাসন, সরকারি ডাক্তার ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়েছে।
পুলিশ বিনা এফআইআর-এর ভিত্তিতে আবারও এক যুবককে গ্রেফতার করল এবং পিটিয়ে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে খোদ কলকাতার বুকে গল্ফগ্রিন থানায়। পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমরা জানি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশকে বাঁচানোর জন্য এই সরকারি ডাক্তার ও পাবলিক প্রসিকিউটররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাবেন আর এর ফলে আজ পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ ও দুষ্কৃতকারী সমার্থক হয়ে গেছে।
এসবের মধ্যেই নিঃশব্দে চলেছে এই রাজ্যটাকে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ বানানোর কার্যকরী পরিকল্পনা। দু দশক আগেও যে উৎসব ছিল নিছকই শিয়া সম্প্রদায়ের একটা সাদামাটা উৎসব, এখন সেই উৎসবই পরিণত হয়েছে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সনাতনীদের ওপর আক্রমণের একটি বড় উপলক্ষ। আর এটা আরও সফল হচ্ছে রাজ্য পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতের কারনে। সুতরাং জাগো সনাতনী জাগো। জয় মা ভবানী।“

