আমাদের ভারত, ২ সেপ্টেম্বর: করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। কিন্তু সেখানে প্রশ্ন উত্তরের জন্য বরাদ্দ সময়ে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকারকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন না বিরোধীরা এবারের অধিবেশনে।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ফোন করে সমস্ত সাংসদদের এই কথা জানিয়েছেন। প্রশ্নোত্তর পর্ব যদি থাকে তাহলে সেই মন্ত্রীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আর তার জন্য তাদের পরামর্শদাতা আধিকারিকদের সংসদে উপস্থিত থাকতে হবে। তার ফলে সংসদ ভবনের লোক সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। যা করণা পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর সেই জন্যই প্রশ্ন-উত্তর পর্ব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদেরও জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
তবে প্রশ্ন-উত্তর-পর্ব বাতিল করা হলেও জিরো আওয়ার থাকবে বলে বিরোধীদের জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। আগে থেকে স্পিকারকে নোটিশ দিয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারবেন বিরোধীরা। কিন্তু সেই জিরো আওয়ারের সময়সীমাও কমিয়ে ৩০ মিনিট করা হয়েছে। অর্থাৎ বিরোধী সাংসদদের ৩০ মিনিটের মধ্যেই যা বলার বলতে হবে।
স্বভাবতই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন মন্তব্য করেছেন, “করোনা মহামারীকে অজুহাত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। বিরোধীদের কাছ থেকে সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। ১৯৫০ এর পর এই প্রথম। সংসদের কাজকর্মের সময়সীমা আগের মত থাকলেও শুধুমাত্র প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন বাতিল করা হলো? সংসদের অধিবেশনের ৫০% সময় বিরোধীদের জন্য এবং বাকি ৫০% সময় সরকারের জন্য বরাদ্দ। অথচ অতিমারীকে অজুহাত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। ”
সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার সংসদীয় গণতন্ত্রকে মজবুত করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে মোদী সরকার নিজের মর্জি মতো চলছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের সংসদ শশী থারুর। তিনি বলেছেন,” ৪ মাস আগেই বলেছিলাম অতিমারীকে অজুহাত করে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করবেন শক্তিশালী নেতারা। এমনিতেই অধিবেশন শুরু হচ্ছে দেরিতে তার ওপর বিনিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হল প্রশ্ন উত্তর পর্ব এখানে থাকবে না। নিরাপত্তা দোহাই দেওয়া হলেও এটা কখনো যুক্তিসংগত কারণ হতে পারে না।’ তিনি আরো বলেছেন, সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার সংসদীয় গণতন্ত্রকে অক্সিজেন দেয়। বর্তমান সরকার সেই অধিকারকে খর্ব করে সংসদকে আসলে একটি নোটিশ বোর্ডে পরিণত করতে চাইছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে নিজেদের ইচ্ছেমত বিল পাস করিয়ে নিচ্ছে।” সংসদে প্রশ্ন-উত্তর-পর্ব বাতিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

