ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১২ ডিসেম্বর: ভারতের স্বাধীনতার প্রায় ৭৫ বছর বাদে স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে কতটা আগ্রহী বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা? আজও কি তারা অনুপ্রাণিত হয় সংগ্রামীদের মহান আদর্শে? তার আঁচ পাওয়া গেল রবিবার, বারাকপুর গান্ধী সংগ্রহশালায় স্বর্গত বিভূতি রঞ্জন সেনগুপ্ত স্মৃতি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতায়।

‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর লেখক কে? ১৮৭২ সালের ১৬ আগষ্ট কোন স্মরনীয় বিপ্লবীর জন্মদিন? পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কাদের মধ্যে? বাংলার বিপ্লববাদের মন্ত্রগুরু কাকে বলা হত? এ রকম ৭৫টি প্রশ্ন ছিল প্রতিযোগিতায়। ওএমআর শিটে প্রতিটিতে তিনটি করে উত্তর। বেছে নিতে হয়েছে সঠিক উত্তরটি। আগাম ঘোষণায় বলা হয়েছিল প্রথম ৫০ জন আবেদনকারীর নাম নেওয়া হবে। ৫০ জনের নাম হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শেষ দিনের আগেই অনলাইন আবেদনের লিঙ্ক অফ করে দেওয়া হয়। আবেদনকারীর ২০ জন ছিলেন মহিলা। কলকাতা ও উত্তর পরগণার পরেই ছিল হুগলি, এর পর দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুরের আবেদনকারী। প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জন।

স্বর্গত বিভূতি রঞ্জন সেনগুপ্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের এনএসএসও-র সহ অধিকর্তা। বেঁচে থাকলে এবার তাঁর ১০০ বছর হত। তাঁর শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার ৭৫ বছর স্মরণ— এ দুয়ের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। বই ও মানপত্র দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করেন স্বর্গত বিভূতি রঞ্জন সেনগুপ্তর পরিবারের তরফে মঞ্জরী রায়, মীনাক্ষী চৌধুরী, ডঃ শিবদত্ত চৌধুরী এবং তিন অধ্যাপক নির্মল প্রধান, মেট্রোপলিটন কলেজের ডঃ স্বাতী মৈত্র ও পুলক রঞ্জন দাস। ব্যবস্থাপনা, সংযোজনা এবং সামগ্রিক পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও সংযোজনায় ছিলেন গান্ধী সংগ্রহশালার অধিকর্তা-সচিব ডঃ প্রতীক ঘোষ।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পান যথাক্রমে মুর্শিদাবাদের কান্দি-জীবন্তীর উজীর হোসেন, বৈদ্যবাটির আবীর মুখার্জি ও মুর্শিদাবাদ-দৌলতাবাদের কবিরুল ইসলাম।
তাঁদের পুরস্কার হিসাবে দেওয়া হয় যথাক্রমে চার হাজার, তিন হাজার ও দু’হাজার টাকার বই।

অনুষ্ঠানে ‘১৯৪৫-৪৬ এর গণ-বিক্ষোভ ও নারী অবদান’ নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের ইতিহাসের গবেষিকা-অধ্যাপিকা ডঃ কেকা দত্তরায়। প্রসঙ্গত, কেকা পারিবারিক সূত্রে ফাঁসির শহীদ মান কুমার বসুঠাকুর-সহ একাধিক স্মরণীয় বিপ্লবীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

পুরস্কারের ১৫ আনাই ছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ক বই। এই প্রজন্মকে বই পড়া এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে একটু ঋদ্ধ করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে দেখানো হয় ‘মুক্তির বহ্ণিশিখা – স্বাধীনতা সংগ্রামে বারাকপুরের ভূমিকা’ শীর্ষক ৪০ মিনিটের তথ্যচিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *