যাদবপুরের পোস্টার বিতর্কে ‘জুটা’-র অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২ নভেম্বর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টার বিতর্কে ব্যবস্থা নিয়েও পিছু হঠল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েও বুধবারের বৈঠকের পর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (জুটা)।

সম্প্রতি বহিরাগত প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর হন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিনা অনুমতিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয় যাদবপুরে বহিরাগতদের প্রবেশ। দিন তিন আগে এ সংক্রান্ত নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি গেটে। এর আগে একাধিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। যার অন্যতম কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয় বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি।

এমনও অভিযোগ উঠছিল, বারবার বহিরাগত প্রবেশের জেরে যাদবপুর ক্যাম্পাসে রাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেসব কড়া হাতে দমন করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাই কঠোর সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বুধবার সাময়িক পিছু হঠে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (জুটা)-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় মঙ্গলবার বলেন, “বহিরাগতদের যাতায়াতের জন্য সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসে শিক্ষক, ছাত্রী, গবেষকরা হেনস্থার মুখে পড়েছেন। যদি কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করতে না পারেন, তা হলে সন্ধ্যার দিকে চলা পাঠক্রমগুলি বন্ধ করা হোক।”

এর পর বুধবারের বৈঠকে পোস্টার খুলে ফেলার কথা হয়। পার্থপ্রতিম রায়ের সমর্থন বা বিরোধিতা কোনওটা করেননি। কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “আজ বৈঠকের প্রথমে আমরা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এটা প্রথমে বলি যে যাদবপুর সব সময় মুক্ত চিন্তাকে সমর্থন করে। যাদবপুরের ঐতিহ্য হচ্ছে যাদবপুর সমস্ত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক যে কোনও আন্দোলনকে সমর্থন করা ও সাহায্য করা। এরা সকলেই যাদবপুরকে সম্মান করে, ভালোবাসে এবং যাদবপুর সাংস্কৃতিকে ধনী করে।

কিন্তু যারা রাত্রিবেলা এসে ক্যাম্পাসকে বিনোদনের জায়গা হিসাবে দেখে, মাদক নেয় এবং শিক্ষক, গবেষক, ছাত্র, কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বৈঠকে উপস্থিত সকলে এই মাদক নেওয়ার সমস্যার কথা স্বীকার করে।

ছাত্ররা পোস্টারের ‘বহিরাগত’ শব্দ নিয়ে আপত্তি জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেন যে তাঁরা বহিরাগত বলতে শুধুমাত্র রাত্রিবেলা ক্যাম্পাসে মাদক দ্রব্য নিয়ে অসামাজিক কাজ করে তাদেরই ‘বহিরাগত’ বলে মানে করেছে – অন্যদের কথা বলেনি। ঠিক হয় ‘বহিরাগত’ শব্দটা নিয়ে যেহেতু বিতর্ক আছে, এই পোস্টার গুলো রাখা হবে না।

বদলে কি লেখা হবে সেটা পরের বৈঠকে ঠিক হবে। আর মাদকাসক্ত অবস্থায় যারা ধরা পড়বে তাদের বিরুদ্ধেও কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটাও পরের বৈঠকে ঠিক হবে। তার আগে সকলে তাদের পরামর্শ দেবে।“

কিন্তু বৈঠক তো ছিল পোস্টার নিয়ে! পার্থবাবু বলেন, “এই রকম কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি ছিলো না। ‘বহিরাগত’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক থাকলে পোস্টারের ভাষা পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু মূল বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে- এটাই আমরা বলেছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *