পুরুলিয়ার কেন্দা থেকে কোয়ার্টজ পাথর পাচার হয়ে যাচ্ছে অবাধে

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ ডিসেম্বর: পুরুলিয়া জেলার মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ কোয়ার্টজ পাথর পাচার হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। পাথর খাদান থেকে পণ্য তুলে কারখানায় রফতানি যোগ্য করে বিভিন্ন রাজ্যে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এমনকি এই কাজে যুক্ত শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে ওই এলাকায়।

পুঞ্চা ব্লকের অন্তর্গত পানিপাথর, জামবাদ প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকায় এই বেআইনি খাদান থেকে প্রচুর পরিমাণে কোয়ার্টজ পাথর উত্তোলন হচ্ছে। পানিপাথর পঞ্চায়েতের কাছে কেন্দা থানার অন্তর্গত নেগুড়িয়া গ্রামে এই রকমই একটি পাথর কারখানার জনবসতির মধ্যে গড়ে উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে কোয়ার্টজ পাথর রফতানি যোগ্য করার কাজ। শ্রমিকদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই কাজ করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পাথরের গুঁড়ো ফুসফুসে ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক শ্রমিক। ওই গ্রামেরই ছয় জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন বলে মৃত পরিবারগুলোর দাবি। পাথরের গুঁড়ো দূষিত করে তুলছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চাষযোগ্য জমি অযোগ্য হয়ে উঠছে।

নেগুড়িয়া গ্রামের স্বজন হারানো লাল মোহন মাহাতো বলেন, “ওই পাথর কারখানায় কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গত বছর আমার ছেলে মারা যায়। কোনও ক্ষতিপূরণ পাইনি। আমরা চাই পাথর কারখানা এখান থেকে তুলে দেওয়া হোক।”

স্থানীয় পানিপাথর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মানস কুসুম মাহাতো দফতরে বসে বলেন, সব বিষয় উপর মহলে জানানো হয়েছে কিন্তু কোনও নির্দেশ আসেনি। পঞ্চায়েতের অক্ষমতার কথা কার্যত স্বীকার করে নেন উপপ্রধান।

স্থানীয় ব্লক ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিক সুব্রত বিশ্বাস পাথর উত্তোলন ও পাচারের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, “খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালাই নেগুড়িয়া এলাকায়। অবৈধ কারবার ধরা পড়ে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

দেখা গিয়েছে কেন্দা থানা এলাকায় অবস্থিত এবং পুঞ্চা ব্লকের অন্তর্গত নেগুড়িয়া গ্রামে ‘নেগুড়িয়া শ্রীকৃষ্ণ মিনারেলস’ (মালিকানা হস্তান্তরের আগে নাম ছিল জেবিএস প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেড) অনুমোদিত পণ্যের চেয়ে অনেক বেশি মজুত রয়েছে। উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকরা কাজ করছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, পরিস্থিতির কারণে এইভাবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওই পাথর কারখানার মালিকের সঙ্গে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, তিনি বৈধতার সঙ্গেই কাজ করছেন। তবে, ব্লক ভূমি রাজস্ব দফতরের করা অভিযোগের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *