আমাদের ভারত, ২০ জানুয়ারি: সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় না থাকলে শুনানি হবে না। এসআইআর আবহে সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। সিইও দত্তর সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যে পুরোপুরি রাজ্য সরকারের, তা আরো একবার স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেওয়া হলো কমিশনের তরফে। অশান্তি হলে ডিজিকে জবাবদিহি করতে হবে।
কমিশন নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কোথাও অশান্তি হলে বা তার জেরে শুনানি বন্ধ হলে তার জবাব দিতে হবে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশকর্তা অর্থাৎ ডিজি রাজীব কুমারকে।
সুপ্রিম কোর্টে গতকালের নির্দেশ মনে করিয়ে দিয়ে কমিশনের সিইও দপ্তরের তরফে বলা হয়েছে, অর্ডার কপির ৭ নম্বর পয়েন্টটা পড়ে নিন। শুনানি পর্ব কেবল নয়, বাকি এসআইআর পর্ব পুরোটাই মসৃণ করার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ডিজি কী করবেন সেটা তার ব্যাপার। এখানে মনে করানো হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কমিশন বা সিইও দফতর আর বিশেষ ভাবে ভাবিত নয়।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে সব ছোটখাট ঝামেলার খবর শোনা যাচ্ছে, সেগুলি জেলা স্তরেই সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ পরিস্থিতি গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক নিশ্চয়ই বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে জানাতেন।
কমিশনের দাবি, মঙ্গলবার সারা দিনে রাজ্যের কোনো জেলা থেকেই কোনরকম অশান্তি বা শুনানি বিঘ্নিত হওয়ার খবর আসেনি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলেই তাদের মত। তবে একইসঙ্গে রাজ্যকে সতর্ক করে কমিশন জানিয়েছে, আইন শৃঙ্খলায় সামান্য ছেদ পড়লেও দায় আর কমিশনের ঘাড়ে থাকবে না।
এসআইআর- এ হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের ফারাক্কা, চাকুলিয়ার পর উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে বিডিও অফিস ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে।
একদল দুষ্কৃতি আচমকা সন্দেশখালির বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালিয়েছে।অফিসের ভেতরে রাখা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তছনছ করা হয়েছে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিডিও দপ্তরের কর্মীরা। অনেকে নিরাপত্তার অভাবে দপ্তর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে কোনো কোনে ক্ষেত্রে ভোটারদের নথি জমা করার পরেও কোনো অ্যাকনলেজমেন্ট বা প্রাপ্তি স্বীকারের কাগজ দেওয়া হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে কমিশনকে রশিদ দিতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে রশিদ দেওয়ার নির্দেশ খুব তাড়াতাড়ি কার্যকর করা হবে। কেবল তাই নয়, কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এক বা দুই সন্তানের পিতা এমন ব্যক্তিদের নামের পাশে বিভিন্ন জায়গায় ৮,১০,১২ বা তারও বেশি সন্তানের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে এই ধরনের গড়মিল সম্পূর্ণভাবে বিএলও স্তরে ঘটেছে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যে কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। গোটা বিষয়টা কমিশন খতিয়ে দেখছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্ট বিএলও’দের ভুল প্রমাণিত হয় তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। এই ধরনের ভুলকে অন্যায় বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

