সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৪ জানুয়ারি: সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষা বোর্ড গঠন করা, বন্ধ হওয়া আদিবাসী হোস্টেলগুলো চালু, বীরভূমে দেউচা পাঁচামিতে খোলা মুখ কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, অযোধ্যা পাহাড়ে টুর্গা বান্দু পাম্পস্টোরেজ প্রকল্প বাতিল সহ মোট ১২ দফা দাবিতে রাজ্য জুড়ে পথ অবরোধ করল ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’।

এই সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির ডাকে ১২ ঘণ্টা অর্থাৎ সকাল ছ’টা থেকে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলল। কর্মসূচিতে পুরুলিয়ায় মোট আট জায়গায় পথ অবরোধ হয়। নিতুড়িয়ার হরিডি মোড়, সাঁতুড়ির বেনাগড়িয়া, হুড়ার লালপুর মোড়, মানবাজার ১ ব্লকের রাইস মিল, মানবাজার ২ ব্লকের বুরুডি মোড়, ঝালদা ২ ব্লকের কোটশিলা মোড়, পুরুলিয়া ১ ব্লকের দামদা চক ও বরাবাজারের বামনিডি মোড়ে পথ অবরোধ হয়। জরুরি পরিষেবা ও কাজের সঙ্গে যুক্ত যান চলাচলে ‘ছাড়’ থাকলেও কার্যত সড়ক পথ স্তব্ধ হয়ে যায়। নিত্য যাত্রী, পর্যটকদের গাড়ি, বিভিন্ন কাজে যাতায়াতকারীরা দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
পূর্ব ঘোষিত হলেও সব স্তরের মানুষের কাছে পরিবর্ত ব্যবস্থা বা অন্য উপায় না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝ পথেই বিপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। ‘চাক্কা জামে’র ডাক দেওয়া সংগঠনের পুরুলিয়া সদর মহকুমার সংগঠক রাজেশ্বর টুডু বলেন, “আমাদের প্রকৃতির স্বার্থে, শিক্ষার স্বার্থে এই কষ্ট সহ্য করে সহযোগিতা করুন।” তিনি বলেন, “টুরগা প্রকল্প বাতিল, প্রস্তাবিত ফরেস্ট কনজারভেশন রুল ২০২২ বাতিল, বনাধিকার আইন প্রণয়ন, অবিলম্বে পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন, বন্ধ হওয়া আদিবাসী হস্টেলগুলি অবিলম্বে খোলা, প্রত্যেকটি জেলায় সাঁওতালি মাধ্যমের কলেজ স্থাপন, সাঁওতালি মাধ্যমের স্কুলগুলিতে বিষয় ভিত্তিক পাঠ্য পুস্তক দেওয়ার দাবি রয়েছে। এছাড়া আদিবাসী বিরোধী আইন বাতিল এবং যথেচ্ছভাবে যাকে তাকে এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধের দাবি জানায় তারা।

স্বাভাবিকভাবেই আজ জেলাজুড়ে প্রবল যানজটের আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল’- এর কর্মসূচি ঘিরে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সতর্ক ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী ছাড়াও জেলার প্রায় সব থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। যাতে পথচারীদের কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলচলের সুযোগ করে দেয় পুলিশ। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা যায়নি জেলায়।

