সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ এপ্রিল: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘ রক্তকরবী’র ১০০ বছরকে ছুঁয়ে দেখল পুরুলিয়ার একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ। এই ভাবেই এবং বৈচিত্রমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা বছর ১৪২৯ কে বিদায় জানিয়ে ১৪৩০কে স্বাগত জানালেন পুরুলিয়াবাসী। একই সঙ্গে নতুন বছরকে আহ্বান জানানো হল। এরই অঙ্গ হিসেবে একটি বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ‘উচ্ছ্বাস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী।
আজ সকালে পুরুলিয়া সুভাষ পার্কে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন কলা-কুশলী উপস্থাপিত করলেন সংগীত, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সঙ্গীতে নৃত্য পরিবেশন করেন। পুরুলিয়া জেলায় বাংলা বর্ষ বিদায়ের এই ধরনের অনুষ্ঠানের উচ্ছ্বাস জনমানসে প্রভাব পড়ে। সাত সকালের অনুষ্ঠানে শুধু অংশ নিতেই নয় মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানকে উপভোগ করতে হাজির ছিলেন বহু বিশিষ্টজন। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন সংস্কৃতি প্রিয় মানুষজন। ক্ষুদে-কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক যুবতীদের নিয়ে মিশেলে এদিনের প্রভাতী অনুষ্ঠান দাগ কাটল দর্শকদের।

আয়োজক গোষ্ঠী ‘উচ্ছ্বাস’-এর অন্যতম সদস্য পেশায় শিক্ষক শুভাশীষ গুহনিয়োগী, বললেন, ‘বাংলা এবং বাঙালিয়ানা এই দুটোই কেমন যেন নবীন প্রজন্মের কাছে উবে যাচ্ছে। উচ্ছ্বাস হারিয়ে যেতে বসেছে- যা কাম্য নয়। অথচ, পুরুলিয়া জেলায় প্রচুর সংস্কৃতি চর্চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রযেছে। তাই, সেই প্রতিষ্ঠান এবং কয়েক জন শিল্পীর সহযোগিতায় বাংলা নব বর্ষের প্রাক্কালে বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য আমরা স্থির করি। এই অনুষ্ঠানে সব ধরনের সৃষ্টিকে উপস্থাপিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলেছেন স্থানীয় কলাকুশলীরা।’

এদিন, লোক সংগীত শিল্পী ছায়া রানি দাস গান পরিবেশন করেন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সন্মান ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। রং তুলি দিয়ে রক্তকরবী’র নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ফুটিয়ে তোলেন এক শিল্পী।

