সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২১ ফেব্রুয়ারি: স্কুল ভবন নির্মাণের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও। স্কুল বিল্ডিং নির্মাণের সেই টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি মানবাজার ১ নম্বর ব্লকের বনমহড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
জানাগিয়েছে, ওই গ্রামে ২০১০ সালে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল ভবন না থাকায় আজও ৭০ জনের বেশি পড়ুয়া গাছের তলায় পড়াশোনা করে। খোলা আকাশের নিচে হয় মিড ডে মিলের রান্না। পরিস্থিতির কথা ভেবে স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৪-১৫ সালে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মঞ্জুর হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা হয়। এতদিনে সুদ সমেত সেটি ২০ লক্ষ টাকা হয়েছিল। বর্তমানে ৮০ হাজার টাকা রয়েছে অ্যাকাউন্টে। ঘটনায় টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব মন্ডল দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা সোচ্চার হন। তাঁরাই ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিতভাবে জানান সব স্তরে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব মন্ডলকে। আজ তাঁকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ। সেই সময় তিনি জানান যে, মেয়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে টাকা খরচ করেছেন। তবে, এত বিশাল পরিমাণ টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ হয়েছে না কি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে তা তদন্তে উঠে আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা।

সর্ব শিক্ষা মিশন জেলা প্রকল্প আধিকারিক বংশীধর ওঝা বলেন, “মানবাজার ১- এর স্কুল পরিদর্শকের অভিযোগ পাই। তার ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন)র অফিসে ওই শিক্ষকের একটি শুনানি হয়। সেখানে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পর তিনি তা করেননি। তাই আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি এফআইআরের নির্দেশ দিই।”
মানবাজার ১ চক্রের স্কুল পরিদর্শক সুদীপ বেরা জানান, “আমি ঘটনাটি জানতে পেরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই গত বছরের ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। তারপর ওই শিক্ষক শুনানিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেবেন বলেছিলেন। তা না হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
মানবাজার থানায় টাকা সরকারি তহবিল আত্মসাৎ, প্রতারণা, সই জাল, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগগ হয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে।

