সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ নভেম্বর: স্কুলের শৌচালয়ের দেওয়াল চাপা পড়ে প্রাণ গেল এক ছাত্রের। ঘটনাটি ঘটেছে রঘুনাথপুর ১ ব্লকের অন্তর্গত আদ্রা থানার শ্যামসুন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।

মৃত ওই ছাত্রের নাম মণীন্দ্র চিত্রকর(৬)। আদ্রা থানার শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা সে। নিয়মিত শ্যামসুন্দরপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যেত ওই শিশু। আজও সকাল ৭ টায় স্কুলে যায় সে। প্রতিদিনের মতো শুরু হয় খিচুড়ি রান্না। পড়াশোনা শুরু হওয়ার আগে কয়েকজন পড়ুয়া স্কুল চত্বরে খেলাধুলো করছিল। তাদের মধ্যেই ছিল মণীন্দ্র।

জানা গিয়েছে, খেলতে খেলতে সে স্কুলের শৌচাগারের দেওয়াল বেয়ে ওঠার চেষ্টা করে। সেই সময়ই ঘটে দুর্ঘটনা। আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে দেওয়াল। দেওয়াল চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় মণীন্দ্র। গুরুতর জখম মণীন্দ্রকে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা ছাত্রটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে।

নিষ্পাপ ওই ছাত্রের মৃত্যুতে প্রশাসনিক উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। স্কুলের শৌচাগার কেন এমন নড়বড়ে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বিডিও রবিশংকর গুপ্তা যান ঘটনাস্থলে। তিনি ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা দফতরের রঘুনাথপুর তিন নম্বর চক্রের অন্তর্গত এই বিদ্যালয়টি। স্থানীয় বিদ্যালয় পরিদর্শক সুবীর কর্মকার বলেন, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। স্কুলের সময় ঘটনাটি না ঘটলেও বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। গ্রিলের দরজা বন্ধ ছিল ওই শৌচালয়টির। দেওয়াল সহ কীভাবে গ্রিলের দরজা ভেঙ্গে পড়ল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদার মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গিটোলা হাই স্কুলের শৌচাগারের ছাদ এবং পাঁচিল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে মৃত্যু হয় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের।

