ঝালদা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৯ জুন: ঝালদা উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু। ভাইপো মিঠুন বিশাল ব্যবধানে জিতেছে যে।

শোকের আবহে আর সিবিআই তদন্তের মধ্যেই উপ নির্বাচন হয় ঝালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। আজ ছিল ভোট গণনা। জয় প্রত্যাশা থাকলেও সকাল থেকে নিজেকে বাড়িতেই গুটিয়ে রেখেছিলেন পূর্ণিমা দেবী। সাড়ে আটটায় তাঁর কাছে ভাইপোর জয়ের খবর আসে। তখনই নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। স্বামীর ছবি বুকে জড়িয়ে চোখের জলের বাঁধ ভেঙে যায়। অশ্রুতে ভিজল নিহত তপন কান্দুর বাঁধানো ছবি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বার বার স্বামীর ছবি আঁকড়ে হয়তো এই জেতার খবর জানান দিতে চাইছিলেন তিনি।

১৩ মার্চ স্বামী হত্যার পর থেকে ঘুম, খাওয়া প্রায় অনিয়ম হয়েছে। দাঁতে দাঁত চেপে নৈতিকতার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে। আজ বেলার পরও বাড়িতে জয়ের উল্লাস নেই, তৃপ্ততা ছিল। তপন কান্দু খুনের প্রতিশোধ নয় এই ভাবেই প্রতিবাদ কাঙ্ক্ষিত ছিল ওই পরিবারের।

পূর্ণিমা কান্দু ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। স্বামী তপন জিতেছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। শপথ নেওয়ার আগেই তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। সেই জায়গায় ভাইপো বিশাল সমর্থন পেয়ে ৭৮০ ভোটে জয়ী হন এবং পুরসভার নির্বাচিত সদস্য হলেন। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে পূর্ণিমা দেবী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আমার স্বামীকে খুন করে ওই জায়গায় নিজের দলের প্রার্থীকে জয়ী করে পুরসভা দখল নিশ্চিত করবে ভেবেছিল। সেটা ওয়ার্ডের মানুষ চাননি। তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাই এত ভোটে মিঠুন জিতল। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানাই।”

আর মিঠুন বলেন, “কাকার খুনের জবাব দিলেন মানুষ। তৃণমূল পতনের পথে। আর পুরপ্রধানের অপসারণ ঘটবে। আমরা বোর্ড গড়ব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *