পুরুলিয়ার দুই ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিককে ‘শাস্তিযোগ্য’ বদলি

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৪ জুন: জেলাশাসকের পর এবার ভূমি সংস্কার দফতরের দুই ব্লক আধিকারিককে সরানো হল পুরুলিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার দুদিনের মধ্যেই বদলির চিঠি পেয়ে পুরুলিয়া ছাড়েন জেলাশাসক রাহুল মজুমদার। ঠিক তার এক দিন পরই বলরামপুর ও হুড়া ব্লকের ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদের কার্যত ‘শাস্তিযোগ্য বদলি’ করলো রাজ্য সরকার।

দুই ব্লক দফতরের কাজ কর্ম কার্যত মুখ পুড়িয়েছে রাজ্য সরকারের। হাতে নাতে প্রমাণ পেয়ে সভা মঞ্চেই প্রতারিত অভিযোগকারীদের উপস্থিত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মুখ দিয়ে হয়রানি আর দালাল চক্রের সঙ্গে দফতরের যোগসাজস শুনে রেগে যান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এর সদুত্তর না পেয়ে চোটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মনে করছেন পুরুলিয়াবাসী। তাঁর নির্দেশ পাওয়ার পর তৎপর হয় পুলিশ। দুই জায়গা থেকে মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকেও। এই ঘটনার দুই দিন পরই বদলি করা হয় তাঁকে। আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ এবং আসানসোল পুরনিগমের সিইও পদে তাকে বদলি করা হয়। হুড়ার ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক অনুপম ভট্টাচার্যকে উত্তর দিনাজপুরে এবং বলরামপুরের ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক সজল মালাকারকে কোচবিহারে বদলি করার নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *