শিক্ষার বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সিতে বাম পড়ুয়াদের বিক্ষোভ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৮ ফেব্রুয়ারি: সমস্ত স্তরের শিক্ষার বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে শুক্রবার
এসএফআই প্রেসিডেন্সি ইউনিটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।

এসএফআই প্রেসিডেন্সি শাখার নেত্রী অদ্রিজা কারক
এই প্রতিবেদককে জানান, স্কুলগুলির যে পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রগুলি রয়েছে, সেগুলিকে কোনও এক বেসরকারি লগ্নিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে তৃণমূল সরকারের মদতে।

নয়া শিক্ষা নীতি অনুসরণ করে শিক্ষাকে আরো দুর্লভ করার জন্য রাজ্য সরকারের ষড়যন্ত্রের আরেক নাম হলো পিপিপি, মানে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল। এই মডেল শিক্ষা কে হোলসেলে কর্পোরেটের কাছে বেচে দেওয়ার এক অস্ত্র মাত্র। এতে শিক্ষার পরিষেবার উন্নতি হওয়া তো দূর, শিক্ষা পাওয়া আরো অসম্ভব আরো কঠিন হয়ে উঠবে। আমাদের অবিরত আন্দোলন করে এই অপচেষ্টা রুখতে হবে। এই পিপিপি মডেলকে ধিক্কার জানিয়ে আজ ভারতের ছাত্র ফেডারেশন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট কর্মসূচি ও মিছিল করে এই খসড়ার কাগজ পুড়িয়ে দেয়।”

বিক্ষোভকারীরা এই প্রতিবেদককে জানান, “রাজ্যে এবার পিপিপি মডেলে স্কুলের ভাবনা। স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে ইতিমধ্যেই সেই খসড়া তৈরি করা হয়েছে। পিপিপি মডেলে স্কুলের বিষয়ে যে খসড়া নীতি তৈরি করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর, তাতে যে যে দিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে – যেমন, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরকারি জমি, বাড়ি, পরিকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে খসড়ায়। খসড়া অনুযায়ী, স্কুল ভবন এবং পরিকাঠামো তৈরির জন্য বেসরকারি সংস্থা লগ্নি করবে। অর্থাৎ, স্কুলগুলির যে পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রগুলি রয়েছে, সেগুলিকে কোনও এক বেসরকারি লগ্নিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।”

নিলামের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার ওই নির্দিষ্ট কিছু অংশ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে। রাজ্য সরকারের এই পিপিপি মডেলের চাপিয়ে দেওয়া আদতে যে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতির একই মুদ্রার এপিঠ – ওপিঠ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষায় বেসরকারিকরণের প্রচেষ্টার কাজ যেভাবে সারা দেশে চলছে, সেটাই এইভাবে সামনে আনা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *