আমাদের ভারত, নদিয়া, ১২ জুন: নবী বিতর্কের জেরে রাজ্যে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ, পুলিশের উপর ইট বৃষ্টি, বাইকে আগুন, দোকান ভাঙ্গচুর সহ তাণ্ডব চালাচ্ছে এক গোষ্ঠী। এবার তার আঁচ এসে পড়লো নদিয়া জেলায়। রবিবার বেথুয়াডহরি স্টেশনে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। সেখানে রানাঘাট-লালগোলা ট্রেনটিতে ভাঙ্গচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তার জেরে আটকে রয়েছে ট্রেন চলাচলা। বিপাকে পড়েছেন রেলযাত্রীরা। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সর্বত্র। এই মুহূর্তে ট্রেন চালানোর পরিস্থিতি নেই বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।
নবী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতায় রবিবার প্রতিবাদ মিছিল বেরোয় নাকাশিপাড়া এলাকা থেকে। এরপর মিছিল মেন রোডে উঠে নেতাজি স্ট্যাচু মোড়ে পৌঁছয়। তার পর সেখানে পথ অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ নামে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হঠানোর চেষ্টা করে। তোলার চেষ্টা হয় অবরোধ। সেই সময় মিছিল থেকে একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে বেথুয়াডহরি স্টেশনে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সন্ধে ৬টা বেজে ১৫মিনিট নাগাদ স্টেশনে রানাঘাট-লালগোলা লোকাল দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় আচমকাই প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়ে উত্তেজিত ভিড়। ট্রেনটির উপর ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তাদের। ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালানো হয়। ভেঙ্গে দেওয়া হয় জানলার কাঁচ।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করলে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী জানান, “১৩৭৭১ লালগোলা লোকাল দাঁড়িয়েছিল। তখনই আচমকা চড়াও হয় উত্তেজিত ভিড়। ট্রেনটিতে ভাঙ্গচুর চালানো হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ট্রেনটির। কয়েক জন যাত্রীও অল্পবিস্তর চোট পেয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।” এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্টেশনে জিআরপি এবং আরপিএফ নামানো হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে স্থানীয় পুলিশও। অনভিপ্রেত যাতে কিছু না ঘটে, তার জন্য নজরদারি চলছে বলে জানাগেছে।
কিন্তু এই তাণ্ডবের জেরে রানাঘাট-লালগোলা ডাউন লাইন তো বটেই, আপ লাইনেও ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। দাঁড়িয়ে রয়েছে ডাউন হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস। রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন, “ট্রেন চালানোর অবস্থা নেই। পরিস্থিতি শুধরোলে ট্রেন চলবে।”

কোন পথে বিক্ষোভকারীরা স্টেশনে ঢুকল, ভাঙ্গচুর চালিয়ে বেরিয়েই বা গেল কী ভাবে, তা জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল। এলাকায় একাধিক জায়গায় অবৈধ জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। অশান্তির আগুন যাতে ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, তার জন্য প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

