প্রেসিডেন্সির এসএফআই’য়ের প্রতিবাদী মিছিল ও বিক্ষোভ সভা

আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি: শুক্রবার ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের তরফে প্রতিবাদী মিছিল ও বিক্ষোভ সভা করে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার অধিকার, ভারতবর্ষের চেতনা এবং সংবিধান রক্ষার দাবি নিয়ে কর্নাটকে সংখ্যালঘু ছাত্রীর সাথে যে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এটি সংগঠিত হয়।

উদ্যোক্তাদের তরফে দেবনীল পাল এই প্রতিবেদককে জানান, “কর্পোরেট প্রীতির স্বার্থে আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা খাতের ওপর বারবার নামিয়ে এনেছে একের পর এক আক্রমণ। শিক্ষাকে পুঁজির অবাধ সেবার জন্য ব্যবহার করার সবচেয়ে কার্যকর দুই অস্ত্র হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ ও কেন্দ্রীয়করণ। সম্প্রতি কালে বিজেপির অবদানে তাতে যোগ দিয়েছে গৈরিকিকরণ ও ধর্মীয় মেরুকরণ।

শিক্ষা খাতে ব্যয়বরাদ্দের হার যখন বছরের পর বছর ধরে বাড়ছে না, তখন আমাদের বুঝে যাওয়া উচিত যে এই সরকার শিক্ষার প্রতি শুধু উদাসীনই নয়, বরং ভীষণ ভাবে ক্ষতিকরও। জাতীয় শিক্ষানীতির দরুন লাগু করা হচ্ছে এমন কয়েক প্রকল্প যাতে শিক্ষাকে প্লেটে করে সাজিয়ে কর্পোরেট অধিগ্রহণের জন্য তুলে দেওয়া হচ্ছে আমাদের ভবিষৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য। যখন দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তখন শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত এমন ভাবে বদলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ আরও কমে যায়। চুক্তির ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করার প্রকল্প চালু করা হচ্ছে যাতে পড়ানোর চাকরিতে ভালো মাইনে তো দূর, নিশ্চয়তা টুকুও না থাকে।

এই একই সুরে সুর মিলিয়ে আমাদের রাজ্যের তৃণমূল সরকার অবসরের বয়স বাড়িয়ে চলেছে। প্রতিটা পদক্ষেপ নেওয়া শিক্ষাকে আরো তুচ্ছ, অপ্রয়োজনীয় ও দুর্লভ বানানোর জন্য।

তবে ওরা জানে, ছাত্ররা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামে তাহলে ক্যাম্পাসের তালাও খোলা যায়। আর চাইলে নয়া শিক্ষানীতির মতো কর্পোরেট স্বার্থে বানানো নীতিকে অমান্যও করা যায়। আর এই ভয় থেকেই তারা বার বার চাইবে যাতে আমরা ভুলে যাই যে শিক্ষা জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবার মৌলিক অধিকার। তারা বার বার চাইবে যাতে আমরা শিক্ষার থেকে মুখর হই, ভুলে যাই সঠিক প্রশ্ন গুলো করতে, ভুলে যাই আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উত্থান আদায় করে নিতে। তাই তারা বার বার ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধতা ভাঙার চেষ্টা করবে, চাইবে আমাদের আন্দোলনের থেকে বিভ্রান্ত করতে, চাইবে আমাদের পরিচিতি সত্তার রাজনীতির ফাঁদে ফেলতে। তারা ভারতের সংবিধানের ২৫ ধারার মারফত দেওয়া ‘ধর্ম স্বাধীনতার অধিকার’কে লঙ্ঘন করে লাগাবে সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন। তারা ভারতের বিভিন্নতা ভুলিয়ে দিয়ে আমাদের ‘এক রাষ্ট্র, এক ধর্ম, এক ভাষা’র বুলি আওড়ানো শেখাবে। এর বিরুদ্ধে সকল ছাত্রছাত্রীদের এক হতে হবে। আমাদের দেখিয়ে দিতে হবে যে শিক্ষা আদতে সকলের – না ধর্মের না বাজারের।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *