বিলকিস কাণ্ডে নারী নিগ্রহ বিরোধী নাগরিক কমিটির প্রতিবাদ সভা

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: নারী নিগ্রহ বিরোধী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গুজরাটের বিলকিস বানোর উপর ধর্ষণকারী ও তার শিশুকন্যা-সহ পরিবারের ৭ জনের হত্যাকারী ১১ জন অপরাধীকে জেল থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অন্যায়ভাবে মুক্ত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২রা সেপ্টেম্বর) কলেজ স্কোয়ারের মহাবোধী সোসাইটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মূল প্রস্তাবের পক্ষে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তবর্গ তাদের সুচিন্তিত বক্তব্য রাখেন। মানবাধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতৃত্ব অধ্যাপক সুজাত ভদ্র বলেন, এই ঘটনাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অত্যাচারের যে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশে বিজেপি চালু করতে চাইছে তারই অংশ হিসেবে দেখতে হবে। যেভাবে অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাতে দেশের আইনকেও লংঘন করা হয়েছে।

অধ্যাপিকা মিরাতুন নাহার বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দল দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে যেভাবে হিংসা ও বিদ্বেষের জায়গায় নিয়ে গেছেন তা আমাদের মাথাকে লজ্জায় নত করে দেয়। ব্রাহ্মণ ও সংস্কারীর নামে জঘন্য অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া একটা বিশেষ মতাদর্শের পরিচয়, যা বিজেপি এ দেশে আনতে চাইছে। একে রোখবের আহ্বান জানান তিনি।

বিশিষ্ট চিকিৎসক শ্রী দুর্গাপ্রসাদ চক্রবর্তি বলেন, গুজরাট গণহত্যা ছিল স্বাধীন ভারতের জঘন্যতম অপরাধ। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের অমৃতটা আজ দেশের জঘন্যতম অপরাধীরা আস্বাদন করল, বিজেপির বদান্যতায়। প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয় গোটা দেশের মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন করে দেওয়া হল। দেশের আধিপত্যবাদীরা শ্রেণি শাসনের হাতিয়ার হিসেবে যেমন ধর্ম, জাত-পাতকে ব্যবহার করছে একইভাবে ধর্ষণকেও তারা কাজে লাগাচ্ছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক অভিজিৎ রায় বলেন, ভারতবর্ষে বিজেপি ফ্যাসিবাদকে আনতে চাইছে। অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে অত্যাচারীর নিরাপত্তা বলে কিছু থাকলো না। এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশিষ্ট সমাজকর্মী কাঞ্চন দাশগুপ্ত বলেন, “আজ সারা দেশের বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন সমস্ত কিছুকে শাসক শ্রেণি কুক্ষিগত করে রয়েছে। ফলে শুধু বিচার ব্যবস্থার উপর তাকিয়ে না থেকে দেশজুড়ে সমস্ত মানুষের সংগঠিত গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং এই পথেই বিলকিস বানোর মতো সমাজের বুকে ঘটে চলা অসংখ্য অপরাধে নিযুক্ত অত্যাচারীদের উপযুক্ত সাজা দেওয়া সম্ভব।“ নারী নিগ্রহ বিরোধী নাগরিক কমিটির তরফে বন্দিতা পাত্র এখবর জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *