বোলপুরে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ বীরভূম ও বর্ধমান জেলার মৎস্য দপ্তরের কর্মীদের

আশিস মণ্ডল, বোলপুর, ১৮ জানুয়ারি: ৯ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ৷ বোলপুরে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় বীরভূম ও বর্ধমান জেলার মৎস্য দপ্তরের কর্মীরা। প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী দীর্ঘ দিন বেতনহীন৷ যদিও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার দাবি, বিক্ষোভ নয় স্মারকলিপি জমা দিতে এসেছিল।

২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন বোলপুরে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ। বর্তমানে তিনি রাজ্যের ক্ষুদ্র-মাঝারি ও কুটির শিল্পমন্ত্রী। মৎস্যমন্ত্রী থাকার সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মৎস্য দপ্তরে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মৎস্য নিগম দপ্তরের পাঁচটি প্রকল্প রয়েছে বীরভূম জেলায়। বল্লভপুর, নানুর সহ মোট পাঁচটি মৎস্য দপ্তরের প্রকল্প রয়েছে। এখানেই কয়েকশো ছেলে-মেয়ে অস্থায়ীভাবে কর্মরত। 

অভিযোগ, প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী ৯ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না। এই অভিযোগে এদিন বোলপুরের নায়েক পাড়ায় মন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ দেখায় বীরভূম জেলা সহ বর্ধমান জেলার কর্মীরা৷ পরে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তারা। বিভিন্ন দাবিদাবা নিয়ে মন্ত্রীকে চিঠিও দেয় কর্মীরা। বেশ কয়েকজন অস্থায়ী কর্মীকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই৷ এই সকল দাবিতে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দুপুর থেকে জমায়েত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৎস্য দপ্তরের কর্মীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের অন্যান্য জেলায় বেতন সঠিকভাবে চালু থাকলেও বীরভূমে বঞ্চিত মৎস্য উন্নয়ন নিগম দপ্তরের বীরভূম জেলার অস্থায়ী কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই বকেয়া বেতন সঠিক সময়ে দিতে হবে, এই দাবি নিয়ে মন্ত্রীর বাড়ি সামনে ধরনা দেয় বিক্ষোভকারীরা।

প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি চলছে৷ সেই কর্মসূচিতে ‘দিদির দূত’ হিসেবে ইলামবাজারে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। এবার মন্ত্রীর বাড়িতে বিক্ষোভ।

কর্মী তপন দাস, সজল শেখরা বলেন, “৮ থেকে ৯ মাস কোনো বেতন পাচ্ছি না৷ এই ভাবে চলবে কি করে? আমাদের কয়েকজন ছেলেকে হঠাৎ করে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা মন্ত্রীকে জানালাম৷ উনি দেখছেন বলেছেন৷ ওনার উপর ভরসা রাখছি, দেখা যাক কি হয়!” 

মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “বিক্ষোভ কেউ দেখায়নি৷ তাদের বিভিন্ন অভাব অভিযোগ নিয়ে এসেছিল কর্মীরা৷ তারা তাদের সমস্যা লিখিত আকারে দিয়েছে। আমি বিষয়টি দেখছি কিভাবে ওদের সমস্যার সমাধান করা যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *