সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি: চিকিৎসার গাফিলতিতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় শালতোড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যথাযথ চিকিৎসা না মেলায় মৃত্যু ঘটেছে ওই ব্যক্তির, এই অভিযোগে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিক্ষোভ ও অবরোধ করে রাখে রোগীর পরিবারের লোকজন। আজ সকালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, স্থানীয় শিরপুরা গ্রামের বাসিন্দা সীমন্ত বাউরি (৪৫) শুক্রবার সন্ধ্যায় পেটে অসহ্য যন্ত্রণা ও অত্যাধিক পরিমাণে বমি করতে থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য শালতোড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। মৃতের আত্মীয় সুজয় বাউরির অভিযোগ, সেই সময় হাসপাতালে কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নার্স দিদিরাই তাঁকে ভর্তি করেন। তারপর ফোনে ডাক্তার বাবুর সাথে শলা-পরামর্শ করে ওষুধ দেন। একটি স্যালাইন চালানোর পর আর স্যালাইনও দেওয়া হয়নি। রোগীর অবস্থা দেখে বলার পরও তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। ডাক্তারবাবু হাসপাতালের ক্যাম্পাসের কোয়ার্টারে থাকা সত্ত্বেও একবার এসে দেখে যাননি। সুজয় বাউরির দাবি, সঠিক চিকিৎসা না মেলায় ভোররাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রোগী ছটপট করতে থাকে। এই অবস্থা দেখে নার্স ডাক্তার বাবুকে কল করলে তিনি এসেই বেগতিক বুঝে রোগীকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। আমরা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে এসে দেখি রোগী মারা গেছে।

এরপরই রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামন্ত হাঁসদা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না। ওনার গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা ছিল। তার উপর তিনি নেশাও করেছিলেন। রাতে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। তারপর ভোরের দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন তৃণমূললের ব্লক সভাপতি সন্তোষ মন্ডল। তিনি বলেন, রোগীর পরিবার মনে করলে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। তখন তদন্ত করার আবেদন জানানো হবে।

