জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ জুলাই: পার্লারের আড়ালে দেহ ব্যবসা। গোপনসুত্রে খবর পেয়ে হানা দিল কমিশনারেট পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারে অভিযান চালিয়ে মূলপান্ডা সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ওই চক্রের মূলপান্ডা লালু হোসেন শা ওরফে তপন ও রাজেন পাল। দু’জনই দুর্গাপুরের বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছিল দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজার বেশ কিছু বিউটি পার্লারে থেকে নিয়মিত দেহ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, দুর্গাপুরের বিভিন্ন পার্লারে মোটা টাকার কাজের প্রলোভন দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার যুবতীদের নিয়ে আসত লালু হোসেন শা ওরফে তপন ও রাজেন পাল। তারপর তাদের আর্থিক অসহায়তার সুযোগে দেহব্যবসার কাজে লিপ্ত করত বলে অভিযোগ। মোটা অর্থের লোভে ওইসব পার্লারের আড়ালে রঙিন শয্যায় বিকেয়ে যেত ওইসব তন্বীদের শরীর। শুধু তাই নয়, অম্বুজার মত অভিজাত এলাকায় দ্বিগুন দামে বাড়ি ভাড়া নিত এসব পার্লার ব্যবসায়ীরা।

গত কয়েকদিন ধরে গোটা বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। আর তারপরই তৎপর হয় পুলিশ। তপন ও রাজেনের গতিবিধির ওপর পুলিশ নজর রাখতে শুরু করে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্গাপুরের বিভিন্ন ডান্সবার গুলিতে যুবতীদের অবৈধভাবে রেখে, তাদের দিয়ে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গতকাল রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর পুলিশের একটি বিশেষ দল হানা দেয় বেঙ্গল অম্বুজায় অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারে। ওই বিউটি পার্লারে তখন উপস্থিত ছিলেন ওই দুই পান্ডা সহ কয়েকজন মহিলা। পুলিশের জালে ধরা পড়ে সকলেই। যার মধ্যে ওই দুই পান্ডা-সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং মহিলাদেরও উদ্ধার করে।
শুক্রবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তপন, রাজেন সহ তিনজনকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বেঙ্গল অম্বুজার ওই বিউটি পার্লার থেকে বেশ কিছু তথ্যও উঠে আসে পুলিশের হাতে। প্রশ্ন, শহরের অভিজাত এলাকায় কার বা কাদের মদতে এধরনের দেহ ব্যাবসার চক্র চলত? গোটা বিষয়টি পুলিশ কঠোর হাতে তদন্ত শুরু করেছে।

