জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৬ ডিসেম্বর: বাজারের ফুটপাত আগেই দখল হয়েছে। এমনকি আস্ত সড়কেরও একাংশ দখল করে চলছে গাড়ি সারানোর কাজ। এবার বাজার ছাড়িয়ে সড়কের পাশে অবাধে গাছ কেটে ছাই ভরাট করে চলছে প্রমোটারি। তৈরী হচ্ছে গ্যারেজ। অভিযোগ, মোটা টাকায় বিকোচ্ছে ভরাট হওয়া ওইসব জমি। নিরব প্রশাসন। ক্ষুব্ধ পরিবেশ প্রেমীরা। এমনই নজিরবীহিন ছবি ধরা পড়ল পানাগড় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। খবর পেয়ে সন্ধেয় পাচারের আগে ঘটনাস্থলে গাছের গুঁড়ি বোঝাই ভ্যান আটক করে বনকর্মীরা।
যানজট ঠেকাতে ২ নং জাতীয় সড়ক পানাগড় বাজার বাইপাস করা হয়। কিন্তু তাতেও স্বস্তি ছিল না। রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত অনেক আগেই দখল হয়েছিল। বাইপাস হওয়ার পর গ্যারেজের কাজ উঠে আসে একেবারে রাস্তার ওপর। আবার কোথাও রাস্তার একাংশ দখল করে লম্বা লরির পার্কিং। কোথাও যন্ত্রাংশ, টায়ারও রাস্তার কিনারায়। ফলে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে মূল রাস্তা। সুষ্ঠভাবে চলাচলের উপায় নেই। যান চালক থেকে সাধারণ পথচলতি মানুষ নাজেহাল। বেসামাল হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। এবার জবরদখলের কব্জায় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন পতিত জমি। পানাগড় বাইপাস হওয়ার আগে জমিগুলো ছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। জমিটি পানাগড়ে হলেও পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ব্লকের অধীনে ধরলা মৌজার মধ্যে পড়ছে। সড়ক নির্মাণের পর জমিগুলো নীচু হয়ে জলাজমি হয়ে পড়ে। সেখানে প্রায় ৪০ টির মত নানান গাছ রয়েছে। রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের জল নিকাশীর কালভার্ট হয়েছে। বর্ষায় জল নিকাশী হয়। পানাগড় বাইপাস হওয়ার পর ওই জমি রাজ্য পূর্ত দফতর (রোড) আওতায় চলে যায়।

গত কয়েক মাস ধরে পানাগড় আরওবি সংলগ্ন জাতীয় সড়ক ওঠার মুখের রাস্তার দু’পাশে চলছে ছাই ভরাট। আর তার ওপর দখল করে চলছে গ্যারেজ তৈরী। অচিরেই বদলে যাচ্ছে জমির চরিত্র। এবার হাত পড়ল সবুজ ভূমিতে। গত দু’দিন ধরে নির্বাচারে চলছে ওইসব গাছ কাটা। জেসিবি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে গাছ। তারপর প্রমাণ লোপাটের জন্য ছাই দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে গাছের গড়া। বনদফতর সুত্রে জানা গেছে, একটি গাছ কাটতে হলে তার বিনিময়ে ৫ টি গাছ লাগিয়ে অনুমতি নিতে হয়। প্রশ্ন, বন দফতরের অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে কিভাবে গাছ কেটে পাচার হচ্ছে? সড়কের ওপর যানবাহনের দূষণ রোধে বেশী পরিমাণে গাছ লাগানো হয়। কিন্তু গাছ লাগানোর বদলে সড়কের পাশে উল্টে অবাধে গাছ কেটে পাচার হল? মাস কয়েক আগে ওই এলাকায় রাস্তার পাশে নয়নজুলি জমি ছাই ভরাট করে দখল হওয়ায় পূর্ত দফতর একটি মামলাও করেছিল। কিন্তু তারপরও আবারও দৌরাত্ম শুরু হয়েছে জমি মাফিয়াদের। যেভাবে রাস্তার পাশে ছাই ভরাট চলছে, তাতে দূষণ যেমন ছড়াচ্ছে আর নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ। আবার বদলে যাচ্ছে জমির চরিত্র।
স্থানীয় বিজেপি নেতা রমন শর্মা জানান, “ওই জায়গাটি দুটি সড়কের সংযোগস্থলের মুখ। তাই যথেষ্ট গুরত্বপূর্ণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। সড়কের পাশে ওইভাবে জবরদখল করে গ্যারেজ তৈরী হওয়ায় সংকীর্ণ হচ্ছে সড়ক। সম্প্রতি নির্বিচারে সড়কের পাশে গাছ কাটা চলছে। এভাবে সবুজ ধ্বংস করার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
যদিও এদিন খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পাচারের আগে ঘটনাস্থলে গাছের গুঁড়ি বোঝাই ভ্যান আটক করে বনকর্মীরা।
বর্ধমান ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার নিশা গোস্বামী অবশ্য জানান, “এধরনের গাছ কাটার কোনও অনুমতি নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে গাছের গুঁড়ি বোঝাই একটি ভ্যান। আটক করা হয়েছে দু’জনকে।
আরও কিছু গাছের গুঁড়ি কাঠকলে পাচার করেছিল। সেগুলি উদ্ধার করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”

