আমাদের ভারত, ১৩ জুন: সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও কর্মচারী সঙ্ঘের ডাকে এক মহামিছিল করা হয়। এতে অংশ নেয় বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সঙ্ঘ, বঙ্গীয় নবউন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘ, জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সঙ্ঘ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘ। মিছিল যায় ধর্মতলা পর্যন্ত।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়, “জাতীয়তাবাদী এই চার সংগঠন আজ স্কুল সার্ভিস কমিশনে চরম দুর্নীতির প্রতিবাদে, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে প্রাপ্য ডি এ প্রদানের দাবিতে ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ র সঠিকভাবে প্রণয়নের দাবিতে রাস্তায় নামে। এই রাজ্যসরকার দিনের পর দিন যেভাবে তার কর্মচারী সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চরম অপমান করে গেছেন এবং সেইসাথে চরম বঞ্চনার শিকার করে তুলেছেন তার প্রতিবাদে আজ তারা পথে নামতে বাধ্য হয়।
সারা রাজ্য থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী আজ তাদের এই বঞ্চনার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সঙ্ঘের রাজ্য সভাপতি আশিষ কুমার মন্ডল বলেন, ইতিপূর্বে বহুবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এই সরকারকে। তারা তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি। এমনকি হাইকোর্টের রায়কেও মান্যতা দেওয়ার কোনো সদর্থক প্রয়াসও এই সরকার দেখায়নি। উপরন্তু বিরূপ মনোভাব পোষণ করেই চলেছেন।
জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সঙ্ঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনুপম বেরা জানান, এই সরকার শিক্ষাক্ষেত্রকে অর্থ উপার্জনের ও স্বজনপোষণের মাধ্যম হিসেবে পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছেন। তাই শিক্ষাক্ষেত্র আজ দুর্নীতির করালগ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে, যা এই রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতার ব্যাপারেও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তিবিধান ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
বঙ্গীয় নব উন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কানুপ্রিয় দাস উল্লেখ করেন, আমরা আরো আগ্রহ করছি যে রাজ্যের শিক্ষানীতি আলাদা করে না করে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০র যথাযথ রূপায়ণ এই রাজ্যেও হোক। তাহলে সমগ্র দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এই রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও চলতে পারবে। তা না হলে এই রাজ্যের শিক্ষার্থীরাও বঞ্চনার শিকার হবে। আমরা কখনই তা চাইনা। তাই জাতীয় শিক্ষানীতির যথাযথ বাস্তবায়ন এই রাজ্যেও হোক।

