আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের আবহে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতের কোভিড মহামারীর সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হলে সবচেয়ে বড় শক্তি একজোট হয়ে থাকা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান সংকটের জন্য দেশকে তৈরি থাকার বার্তা দেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী, বিশ্বজুড়ে তা পড়তে পারে। ফলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হবে। তাঁর কথায়, বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা সহজে কাটবে না। তাই আগাম প্রস্তুতি এবং একসঙ্গে থাকার বার্তাই তিনি দেন সংসদে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-পথে অশান্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং অবরোধের মতো ঘটনাকে তিনি সরাসরি অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করেন। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংসদে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেই আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বেসামরিক পরিকাঠামো এবং জ্বালানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন সঙ্কটের সময় কিছু অসাধু শক্তি পরিচিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সীমান্ত উপকূল, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জ্বালানি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চাপের কথা তুলে ধরেন তিনি। দেশের প্রয়োজনের বড় অংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সমস্যা কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ করছে। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের যোগান যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্য বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ভিতরে উৎপাদন বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ দেশে ফিরেছেন। বিভিন্ন দেশে থাকা ভারতীয়দের পাশে দাঁড়াতে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় রয়েছে সরকার বলেও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

