সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ২০ তারিখ মুখোমুখি বৈঠকে মমতা- মোদী

আমাদের ভারত, ১২ ডিসেম্বর: পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া অর্থ নিয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময় চেয়েছিলেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের ২০ তারিখ দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন তারা।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে বাংলার বকেয়া নিয়ে বৈঠক করতে চান। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি সময়ও চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ওই বৈঠক হবে। ১৯ ডিসেম্বর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে ১৮ ডিসেম্বর দিল্লি যাচ্ছেন। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পর তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া অর্থ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের দ্বন্দ্ব চলছে। দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এবার প্রধানমন্ত্রী- মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে কি এই অচলাবস্থা কাটবে?

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কাছে সময় চেয়ে তার দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিল নবান্ন। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, স্বাস্থ্য যোজনার বকেয়া টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন মমতা। তবে মমতা শুধু একা নয়, তার সঙ্গে থাকতে পারেন দলীয় কয়েকজন সাংসদও।

কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সকল কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করছে সরকার। দলীয় নেতা কর্মীদের পকেটে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা। বঞ্চিত থাকছেন সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রের পাঠানো অর্থ কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার হিসেব চেয়েও তারা পাচ্ছেন না। তাই হিসেব না দিলে অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তারা।

২০২২-এর আগস্টে চার দিনের দিল্লি সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বকেয়া নিয়ে। তিনি এই সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে সে বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তারপর এক বছর কেটে গেলেও সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। মমতা সরকারের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তহবিলের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। সব মিলিয়ে ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলে রাজ্যের অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *