আমাদের ভারত, ২৬ জুন:”ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে, নাহলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।” প্রতিবেশী মুসলিমদের এই হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে উত্তর-প্রদেশের কানপুরের কলনিয়ালগঞ্জের ১০টি হিন্দু পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি করে পালানোর প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেখানে হিন্দু পরিবারগুলিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া , ভয় দেখানো, হিন্দু মেয়েদের শ্লীলতাহানি প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে বলে অভিযোগ।
১০ হিন্দু পরিবার মুসলিম প্রতিবেশীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ের শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা হয়। যখন মেয়েটির ভাইরা ঘটনার প্রতিবাদ করেন, তখন দুষ্কৃতীরা তাদের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। মেয়েটিকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এলাকার হিন্দুদের অভিযোগ, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের হাতে অত্যাচারিত হওয়া থেকে বাঁচতে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে পালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। সেই জন্য তারা বাড়ির বাইরে তাদের বাড়ি বিক্রির পোস্টার দিয়েছেন। একই সঙ্গে লিখেছেন, “আমরা এখান থেকে চলে যাচ্ছি”। কারণ তাদের দুটো শর্ত দেওয়া হয়েছে হয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করো নয়তো এই এলাকা ছেড়ে চলে যাও। সেই কারণে ভিটেমাটি ছেড়ে পালানো ছাড়া তারা কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।
কানপুরের পুলিশ কমিশনার অসীম অরুন বলেন, প্রত্যেক পরিবারের সুরক্ষিত থাকার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ থাকলেও নিজের বাড়িতে সুরক্ষিত থাকার অধিকার সবার আছে। যদি নিজের বাড়িতে। থাকতে কারুর কোন অসুবিধা হয় তাহলে পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন,” কলনিয়ালগঞ্জ থানা এলাকার রেল ট্রাক এলাকায় একাধিক শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণেই হিন্দু পরিবার নিজের বাড়ির বাইরে লিখে রেখেছে আমরা এখান থেকে চলে যাচ্ছি।”
হিন্দু পরিবার গুলো জানিয়েছে, এই সমস্যা দুদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে তারা এই সমস্যার সম্মুখীন। কিন্তু এখন এই সমস্যা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। জীবন এবং সম্মান বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো রাস্তা নেই। তাদের হুমকি, মারধর, বাড়ির মেয়েদের উত্যক্ত করা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার প্রভাবশালীরা তাদের ওপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
পুলিশ এই পরিবার গুলিকে ভরসা দেওয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

