আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি:পুদুচেরি বিধানসভায় আস্থা ভোটে হেরে গিয়ে কংগ্রেস সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু সামনেই বিধানসভা ভোট। তাই ভোটের মাত্র আড়াই মাস আগে বিকল্প সরকার করতে চাইল না বিজেপি। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের দক্ষিণ ভারতের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
সোমবার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের ব্যর্থ হয় কংগ্রেসের ভি নারায়ানস্বামীর সরকার। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপরে বিরোধী জোটের বৃহত্তম দল এন আর কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গাস্বামীর নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গড়ার তোড়জোড় শুরু হলেও মোদী সরকার বুধবার পুদুচেরি বিধানসভা ভেঙে নির্ধারিত সময়ে নতুন ভাবে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি মঙ্গলবার নারায়ণস্বামীর ইস্তফা গ্রহণ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিধানসভা ভেঙে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি সুপারিশ করেছিলেন।
৩৩ আসনের পদুচেরি বিধানসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ২৬। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োগ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল ১৪। এরমধ্যে এনডিএ জোট শরিক এন আর কংগ্রেসের ৮ তার সহযোগী এমডিএমর ৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এছাড়া ঐ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উপরাজ্যপালের মনোনীত ৩ জন বিধায়ক বিজেপির। অর্থাৎ গণিত বলছে বিকল্প সরকার গড়ার সুযোগ ছিল বিজেপির সামনে। কিন্তু আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পদুচেরিতেও বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তার আগে সহযোগীদের নিয়ে নতুন সরকার গড়ে বিজেপি আর কোন রাজনৈতিক বিতর্কে আর জড়াতে চাইলো না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পুদুচেরিতেও কেরলের মত পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাস প্রচলিত রয়েছে।

