স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, ২৪ আগস্ট: করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কায় পিকু(PICU) তৈরিতে জোর। প্রায় ৪৫ বেডের হতে চলেছে পিকু, থাকছে উন্নতমানের যন্ত্রাংশ। আশ্বস্ত শিশুদের মায়েরাও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আসন্ন। আর তাতে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক মহল। সেই কারণে কোমর বেঁধে নেমেছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজও। তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত কোনও শিশুর আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হলে তাদের দ্রুত ভেন্টিলেশন সহ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পিকু তৈরির কাজে জোর দিল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই মেডিকেলের পুরোনো ভবনে শিশু বিভাগের পাশেই তৈরি হচ্ছে এই পেডিয়াট্রিক ইন্সেনটিভ কেয়ার ইউনিট। যেখানে প্রায় ৪৫ টি বেড থাকছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। বেড বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ। অক্সিজেনের পাইপ লাইনের কাজ থেকে শুরু করে ভেন্টিলেটর স্থাপনের কাজ চলছে দ্রুততার সঙ্গে। সবেতেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সময়কালেই করোনার তৃতীয় ঢেউ বাংলাতেও আছড়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আগেই সাবধানতা অবলম্বনের নিদান দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও সে কারণে বিশেষত শিশুদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলিতে পিকু তৈরিতে উদ্দ্যোগী হয়েছিল। আর এবারে সে পথেই হেটে প্রায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি রায়গঞ্জ মেডিকেলে। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিশু বিভাগের পাশেই প্রায় ৪৫ বেডের উন্নতমানের পিকু তৈরি হচ্ছে। বেড চলে এসেছে। ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সরবরাহ থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল কৌশিক সমাজদারের দাবি, তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত। আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পিকু তৈরিতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে হাতের কাছে রায়গঞ্জ মেডিকেলেই আগামীতে এই পিকুর পরিষেবা মিলবে বলে জানতে পেরে অনেকটাই আশ্বস্ত শিশুদের মায়েরাও। তাদের দাবি, দ্বিতীয় ঢেউ যেতে না যেতেই অনেকে মাস্ক পরা বন্ধ করেছেন। অসচেতনতার চিত্র আবারো স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু শিশুদের কথা ভেবে সকলের সচেতন হওয়ার আবেদন করেছেন মায়েরা। তার পাশাপাশি কোনও শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়ে যদি আশঙ্কাজনক অবস্থা হয় তাদের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রায়গঞ্জ মেডিকেলেই মিলবে, আর এতে হয়রানি ও দুশ্চিন্তা দুইই কমবে বলে দাবি শিশুদের মায়েদের।


