আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ২০ আগস্ট: জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এবছর ৫১৩ বছরে পড়ল, দাবি রাজ পরিবারের। করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে কাঠামো পুজো ও দধি কাদো খেলার মধ্য দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হল।

রাজা নেই, নেই রাজত্বও৷ কিন্তু রাজ পরিবারের পুজোর নিয়ম নিষ্ঠা এখনো একই ভাবে চলে আসছে। জন্মাষ্টমীর রাতে পুজো হয়। এরপর আজ দুর্গা প্রতিমার কাঠামো পুজো ও দধি কাদো খেলায় সামিল হলেন এলাকার কিশোররা। পুজো দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। দধি কাদো খেলার মাটি ব্যবহার করে তৈরি হবে দুর্গা প্রতিমা। কথিত রয়েছে, এক সময় এই পুজোকে কেন্দ্র করে নরবলি দেওয়া হত। আজও প্রতিকী নরবলি হয়ে থাকে দুর্গা পুজোর অষ্টমীর গভীর রাতে। মানুষের পুতুল বানিয়ে দেওয়া হয় বলি। লাল রক্তে রাজপরিবারের দুর্গা পুজোর প্রচলন হয়েছিল বলেই আজও বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গা প্রতিমার রং তপ্তকাঞ্চনবর্ণ।

কোচবিহার রাজপরিবারের সদস্য বিশ্ব সিংহ ও বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির সদস্য শিষ্য সিংহ যৌথভাবে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। এদিন কাঠামো পুজো ও দধি কাদো খেলার মধ্য দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হল।
রাজ পুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, “এদিন এই কাঠামো পূজা করেন। রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, এখন থেকে জোরকদমে এই কাঠামোর উপর দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হবে। কালিকাপূরাণ মতে হয় তাদের এই পূজা। তিনি আরও বলেন, এখনো বলি প্রথা রয়েছে।
রাজ পরিবারের সদস্য প্রণতকুমার বসু বলেন, আজ কাঠামো পুজো হল। এবছর ৫১৩ বছরে পড়লো রাজবাড়ির দুর্গাপূজা। তিনি আরো বলেন, এবছর প্রথম পুত্রবধূর উপস্থিতিতে কাঠামো পুজো সম্পূর্ণ হল।

