সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ ডিসেম্বর: মিগজাউমের জেরে সারা জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে অকাল বর্ষণ। যার ফলে মাথায় হাত চাষিদের। এবছর বর্ষার ঘাটতি ও দেরিতে বর্ষার কারণে জেলায় চাষাবাদ অনেকটাই পিছিয়ে যায়। দেরিতে হলেও চাষ শুরু করে কোনও প্রকারে তা বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় কৃষকরা। বৃষ্টির জলের অভাবে পাম্প, স্যালো চালিয়ে কোনও প্রকারে রক্ষা করলেও প্রকৃতির রোষে সব শেষ হয়ে যাবার যোগাড়।
জেলার অধিকাংশ এলাকাতেই ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। মাঠেই কাটা ধান পড়ে আছে, তো কোথাও কাটার তোড়জোড় চলছে। এই অবস্থায় গতকাল থেকে অবিরাম বৃষ্টি ভাবিয়ে তুলেছে চাষিদের। জমিতে জল জমে যাওয়ায় কাটা ধান আর গোলায় তুলে আনা সম্ভব হবে না বলেই চাষিরা মনে করছেন। তাই তাদের চিন্তা বেড়ে গেছে। এই অকাল বৃষ্টিতে আমন চাষ সব শেষ হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেছেন চাষিরা।
ওন্দার চাষি মোহিনী ঘোষ, সাগর ঘোষদের বক্তব্য, বর্ষা সেরকম হলো না সময়ে, পরে অনেক কষ্ট করে স্যালোর সাহায্যে চাষ করেও শেষ রক্ষা হোল না। ধারদেনা করে সার, ওষুধ কিনেছি, ধান বিক্রি করে শোধ করবো ঠিক করেছিলাম, এখন তো সব শেষ। কী হবে এবার? প্রশ্ন তাদের।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অকাল বর্ষণ আমন ধানের খুব ক্ষতি করবে। মাঠে যে ধান পড়ে আছে তা আর গোলায় আনা সম্ভব নয়। যদিও গাদা করে রাখা আছে বলে কিছুটা রেহাই হবে। আর যারা সবে মাত্র আলু
লাগিয়েছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যেখানে আলু গাছ হয়েছে সেগুলি বৃষ্টিতে ভালো হবে। এছাড়াও সর্ষের ক্ষেত্রে বৃষ্টি ভালো ফল দেবে।

