দুই বছরের শিশুর মুখে অনর্গল ইংরেজি ও সংস্কৃত! ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে এ নাম উঠল বালুরঘাটের খুদে প্রত্যয়ীর

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ সেপ্টেম্বর: ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম উঠল বালুরঘাটের খুদে প্রত্যয়ীর। মাত্র ২ বছর ৩ মাস বয়সের শিশুর মুখে অনর্গল ইংরেজি, সংস্কৃত শুনে তাজ্জব পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীরা। ছবি দেখেই ঝড়ের গতিতে বলছে ফুল, ফল, জীবজন্তু, জিওমেট্রিকাল শেপ সহ নানা বিষয়ের ইংরেজি নাম। শুধু তাই নয় জাতীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে সংস্কৃত বেদ মন্ত্রের উচ্চারণও স্পষ্ট বলছে ওই শিশু কন্যা। যা অনেককেই অবাক করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই।

বালুরঘাট শহরের উত্তমাশা এলাকার এমনই এক প্রতিভা সম্পন্ন শিশু-কন্যা প্রত্যয়ী সরকার জায়গা করে নিয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে। যাকে ঘিরে রীতিমতো উচ্ছ্বাসে ভাসছেন তার বাবা মা ও পরিজনেরা। এদিকে এত কম বয়য়ে ওই শিশুর এমন ট্যালেন্ট দেখে হতবাক পাড়া প্রতিবেশীরাও। রবিবার এই খবর চাউর হতেই ছোট্ট ওই শিশুকে দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকেই।

জানা গিয়েছে, ছোট্ট প্রত্যয়ী সরকারের বাবা প্রবীর সরকার। সে হাইস্কুলের শিক্ষক। মা পরিণীতা ভৌমিকও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। তারা জানিয়েছে, ওই শিশুর বয়স যখন এক বছর দুই মাস, তখন থেকেই অল্প অল্প কথা বলতে পারে। এরপর থেকে এবিসিডি ও বিভিন্ন ছড়া বলতে শেখায় ওই খুদের মা। এরপরে ধীরে ধীরে নানারকম জিনিসের নাম বলতে শিখে যায়। এখন কোনো জিনিসের ছবি দেখলেই তার ইংরেজি নাম বলে দিতে পারে সে। এমন ৩৫০ টি’রও বেশি সামগ্রীর নাম একেবারেই মুখস্ত তার। এবছর ১৬ জুলাই সেই কীর্তিকলাপ মোবাইলে রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। এরপরে ২৭ জুলাই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস সেই আবেদনে সাড়া দেয়। গত শনিবার রাতে বাড়িতে এসে পৌঁছায় ইন্ডিকা বুক অফ রেকর্ডস এর সার্টিফিকেট, মেডেল, আইকার্ড সহ নানা সরঞ্জাম।

এবিষয়ে ওই শিশুর বাবা প্রবীর সরকার বলেন, ওর মা ছোট থেকেই নানারকম শিক্ষনীয় জিনিস শেখায়। যার ফলে এখন সে অনেক কিছু রপ্ত করে ফেলেছে। তবে আর সকলের থেকে একটু অন্যভাবেই সে খুব তাড়াতাড়ি সমস্তকিছু রপ্ত করে ফেলছে। যা দেখে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে আবেদন করেছিলাম। এখন পুরষ্কার সহ সমস্ত জিনিস চলে এসেছে।

ওই শিশুর মা পরিণীতা ভৌমিক বলেন, জোর করে শেখাতে হবে বা শিখতেই হবে এমন ভাবে নয়। খেলার ছলে কিংবা ঘুম পাড়ানোর সময় সেই সব শেখাতাম। এখন ছবি দেখলে নিজেই সেই জিনিসের নাম ইংরেজিতে বলে দেয়। এছাড়াও বাইরে নিয়ে গেলে কোনো ইংরেজি ওয়ার্ড দেখলেই উচ্চারণ করার চেষ্টা করে।

ওই শিশুর ঠাকুরদা পরিমল সরকার বলেন, আমি মনে করি ভগবানের কৃপায় আজ আমার নাতনি এখন থেকেই প্রতিভাবান হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেশী তথা পুলিশ কর্মী গৌতম প্রামাণিক ও শিক্ষক দিগন্ত ভৌমিক বলেন, অনেক দিন আগে থেকেই ওই শিশুর প্রতিভা দেখেছিলাম। কিন্তু এত বড় সাফল্যে আজ আমরা সকলেই অবাক। ও আমাদের পাড়ার নয়, গোটা বালুরঘাটের গর্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *