গোপাল রায়, আমাদের ভারত, আরামবাগ, ২১
মার্চ: স্থানীয় আলু চাষিদের আলু হিমঘরে সংরক্ষণের দাবিতে হিমঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান আলু চাষিরা। আলু চাষিদের দাবি, গত বছর বাইরের রাজ্যে আলু পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তাই কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবারও মাঠে আলুর দাম একবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। আলু চাষিরা হিমঘরমুখী। গোঘাটের হাজিপুর সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েক কিলোমিটার পাশেই পশ্চিম মেদিনীপুরের তাতারপুর সহ কয়েকটি জায়গায় চাষিরা আলু রাখতে পারেনি। অথচ অন্যান্য জেলার আলু হাজিপুরের স্থানীয় হিমঘরে ঢুকে যাচ্ছে। তাই রাত থেকেই চাষিরা আলু নিয়ে স্থানীয় হাজিপুরের হিমঘরে হাজির হয়েছেন।
আলু চাষিদের দাবি, তাদের উৎপাদিত আলু তাদের এলাকার স্থানীয় হিমঘরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই নিয়েই রাত থেকে আলু চাষিরা হিমঘরের সামনে জমায়েন হন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে হিমঘরে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিশও টোকেন সিস্টেম করে চাষিদের বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, ভোটের আগেই উৎপাদিত আলু নিয়ে দিকে দিকে আলু চাষিরা ক্ষুব্ধ। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও আলু চাষিদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। আরামবাগ মহকুমা এলাকাটি কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আলুর দাম না মেলায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষজন। গতকালই খানাকুলের বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষ সরাসরি মাঠে কৃষকদের কাছে গিয়ে ভোট প্রচার করেছেন ও কৃষকদের দুর্দশার কথা শুনেছেন। তারপরেই হানা দিয়েছিলেন স্থানীয় হিমঘরে।পুলিশি হস্তক্ষেপে শেষমেষ প্রত্যেক চাষিদের কাছ থেকে ৫০ বস্তা করে আলু সংরক্ষণ করবে হিমঘর কর্তৃপক্ষ তার জন্য টোকেন দেওয়া হয়।
হিমঘরের সামনে চাষিদের লম্বা লাইন পড়ে টোকের নেওয়ার। যদিও বিঘা প্রতি চাষিদের উৎপাদন ৮০-৯০ বস্তা। এক একজন চাষি গড়ে ৪-৫ বিঘা আলু চাষ করে। যদিও গোঘাটের হাজিপুর এলাকাটি আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগের এলাকা। আর সেই এলাকাতেই ক্ষুব্ধ আলু চাষিরা।

