বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর নামে পোষ্টার, বাঁকুড়া জেলাজুড়ে আলোড়ন

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৮ সেপ্টেম্বর: পোষ্টারের মাধ্যমে নোংরা রাজনীতি বাঁকুড়ায়। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁয়ের নামে কুৎসিত ভাষায় পোষ্টার সাঁটিয়ে দেয়। এই ঘটনায় সারা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এই পোষ্টারের জেরে লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

আজ সকালে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গঙ্গাজলঘাঁটির চয়নপুর এলাকায় বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের নামে নোংরা ভাষায় পোষ্টার নজরে আসে। বাঁকুড়া- রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি যাত্রী প্রতিক্ষালয়ে ও আরও কিছু এলাকায় পোষ্টার সাঁটা রয়েছে। পোষ্টারে সৌমিত্র খাঁর বিরুদ্ধে গত বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের গলাতেও স্পষ্টতই শোনা গেছে দলের সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর।

এদিকে পোষ্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে এই কাজ করেছে তৃণমূল। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল এই ঘটনার জন্য বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দকেই দায়ী করেছে।

সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এ প্রসঙ্গে বিশেষ মুখ খুলতে চাননি। তিনি বলেন, কারা এই ধরনের কুৎসা করে তা সকলেই জানেন। রাজনীতিতে কিছু পচা মাল থাকে কোথাও বিক্রি হওয়ার যোগ্য নয় তারা। এর বেশি তিনি কিছু বলতে না চাইলেও বিজেপির গঙ্গাজলঘাঁটি মন্ডল সভাপতি রাজু তেওয়ারি বলেন, সৌমিত্র খাঁ ইজ সৌমিত্র খাঁ। বিষ্ণুপুর লোকসভায় তাঁর বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। তাই এবার তিনি ৩ লক্ষ ভোটে জিতবেন। এই পোষ্টার পড়ার ঘটনায় রাজু তেওয়ারি তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের পরাজয় সুনিশ্চিত জেনে এই ধরনের রাজনীতির খেলায় নেমেছেন শাসক দলের নেতারা। দম না থাকলেই চোরের মত এই ধরনের রাজনীতি করতে হয়। এতে তৃণমূল সিদ্ধহস্ত।

তিনি বলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের ৩ টি ভক্তাবাঁধ, গোবিন্দধাম ও গঙ্গাজলঘাঁটি অঞ্চল থেকে সৌমিত্র খাঁ কম করেও ১৫ হাজার ভোটে জিতবেন। আর গোটা লোকসভায় ৩ লাখ ভোটে জিতবেন। সৌমিত্রর সমকক্ষ তৃণমূল বা সিপিএম দলে কেউ নেই। তবে লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বাঁকুড়া জেলাজুড়ে প্রকট হচ্ছে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এই পোষ্টার পড়ার ঘটনাতেও তারই ইঙ্গিত দিচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।সম্প্রতি জেলার অপর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপিরই নেতা কর্মীদের একাংশ। দলের কর্মীদের হাতে দলীয় কার্যালয়ে সাময়িক তালাবন্দি থাকতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে। জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মন্ডলকেও প্রকাশ্যে হেনস্থা করতেও ছাড়েননি তারা। এবার বিষ্ণুপুর লোকসভা এলাকাতেও সাংসদ সৌমিত্র খাঁর বিরুদ্ধে বিধানসভার টিকিট বিক্রির অভিযোগ তুলে পোষ্টার পড়ল। এটাকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল।

এবিষয়ে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, তৃণমূল কেন এসব কাজ করতে যাবে। বাঁকুড়ায় বিজেপিতে মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। বিজেপির রক্তক্ষরণ যখন শুরু হয়েছে তখন তৃণমূলকে কিছু করতে হবে না। বিজেপির নেতারাই তাদের ধংসের জন্য যথেষ্ট। অলক মুখার্জি আরোও বলেন, জেলার দুই সাংসদ নেতার বিরুদ্ধে তারই দলের নেতারা যখন চোর, ফেরববাজ বলে আক্রমণ করছে তখন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকেই তাদের নিরাপত্তা দিয়ে উদ্ধার করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *