সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি: মাও নামাঙ্কিত পোস্টারে ১ মার্চ জঙ্গলমহল জুড়ে বনধের ডাক দেওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঘমুন্ডিতে।
মাওবাদীদের রিমিল ও বিপ্লব সহ অন্যান্য নেতৃত্বের মৃত্যুর বদলা চেয়ে রবিবার রাতে একাধিক মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টারে ছয়লাপ পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি। অযোধ্যা পাহাড়ের হিল টপ থেকে বাঘমুণ্ডি ব্লক সদর যাওয়ার রাস্তায় টুরগা, বামনী ফলস সহ সরকারি দফতরের দেওয়াল থেকে এই পোস্টারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পোষ্টারে বলা হয়েছে সরকারী ভাতা ও চাকুরির লোভ দেখিয়ে মাওবাদী ছেলেদের রোখা যাবে না। তারা আবার জঙ্গলে ফিরে যাবে বলেও পোষ্টারে দাবি করেছে।
এছাড়া জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের কথা কেন সরকারের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না, সে বিষয়ে জঙ্গলমহলের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসপি, ডিএসপিদের জবাব চাওয়া হয়েছে। লাল কালিতে সাদা কাগজের উপর হাতেলেখা এই পোষ্টার ঘিরে শুধু বাঘমুন্ডি এলাকা নয় জঙ্গলমহল জুড়েই তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ।
সোমবার বিজেপির ডাকা ১২ ঘন্টার বনধের সকালে এই মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার উদ্ধার করে বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ। তবে কে বা কারা এই পোষ্টারগুলি সাঁটিয়েছে, কি তাদের উদ্দেশ্য? এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিক ও রাজ্য গোয়ান্দা দফতর।
জঙ্গলমহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এটা পরিস্কার যে তারা কোনো অজানা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে আড়ষা ব্লকের অন্তগর্ত মিশিরডি, বেলডি ও জীবনডি এলাকায় বেশ কয়েকটি মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার উদ্ধার করে পুলিশ। সাদা কাগজের উপরে লাল কালিতে ছাপানো ওই পোস্টারগুলিতে ১১ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে ওই দাবি গুলিতে পেট্রো পণ্যের দাম কমানো, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ বন্ধ সহ উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানানো হয়েছিল। এর এক দিনের মধ্যেই ওই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০১০ সালের ১১ নভেম্বর বামনি ঝোরার কাছে যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল মাওবাদীদের দুই স্কোয়াড সদস্য বিপ্লব ও রিমিলের। রিমিল অর্থাৎ ধীরেন মুর্মুর বাড়ি ছিল বলরামপুরের কানহা লাগোয়া বেড়সা গ্রামে। অদূরে, অযোধ্যা পাহাড়ের ঢালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষও হয়েছিল।

