আমাদের ভারত, ৯ জুলাই: ভোটের দিন দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ, হুমকি, ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছিল বিজেপি। সেই অভিযোগে বিভিন্ন বুথে ছুটেও গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পরের দিন ওই একই ঘটনা ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ করেছে পদ্ম শিবিরের স্থানীয় কর্মীরা। অভিযোগ শুনেই রবিবার সকালে হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাদমা গ্রামে যান সুকান্ত।
কাদমা গ্রামে বিজেপি কর্মীরা সুকান্তকে অভিযোগ জানান, রাতে বিভিন্ন জায়গায় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে ভোট করানো হয়েছে। গ্রামবাসীরা আজ সকালে গুলির খোল উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গ্রামে গিয়ে কথা বলতে বলতে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
সুকান্ত বলেন, বেছে বেছে রাজবংশী ও তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের টার্গেট করা হচ্ছে। এইসব মানুষগুলোর উপর হামলা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক এনে হামলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শ কাতর। এভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমি নিজে কেন্দ্রীয় এসটি কমিশনকে চিঠি লিখে গোটা ঘটনা জানাবো এবং তাদের এখানে এসে সবকিছু নিজের চোখে দেখে যাওয়ার কথা বলব।” তিনি বলেন,” এখানে কাল ভোট করতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ কেউ ভোট দিতে পারেনি। যা হয়েছে পুরোটাই ছাপ্পা। তাই আমরা এই এলাকায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাবো।
কাদমা ছাড়াও বিজেপি সভাপতি বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালদা গ্রামে যে বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেই সব আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন। ভোট পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধীদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর থেকে শুরু করে হুমকির মত বিভিন্ন ঘটনা ঘটে চলেছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করছে না বলে এই সব ঘটছে বলে অভিযোগ করেন সুকান্তবাবু। তিনি জানান, গণনার দিন পর্যন্ত তিনি জেলাতেই থাকবেন। যেখানে যেখানে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা হবে তিনি সেখানেই ছুটে যাবেন এবং তার বিহিত করার চেষ্টা করবেন।

