ডলারের পরিবর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রাতেও বাণিজ্যের অনুমতি কেন্দ্রীয় সরকারের

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৫ জুলাই: শুধু ডলারেই নয়, এখন থেকে ভারতীয় মুদ্রাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি–রপ্তানী বাণিজ্য করা যাবে। বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ভারত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে মঙ্গলবার প্রথম চালানের পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানী হল।

জানাগেছে, এতোদিন পর্যন্ত ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি–রপ্তানি হতো শুধুমাত্র ডলারের মাধ্যমে। পণ্য রপ্তানি করতে গেলে এলসি অর্থাৎ লেটার অব ক্রেডিট কাটতে হতো ডলারের মাধ্যমে। যত টাকার পণ্য রপ্তানি হবে সেই অনুযায়ী মূ্ল্য ধরে সেই পরিমাণ ডলার কিনতে হতো। গত প্রায় ৫ মাস ধরে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার ভাড়ারে টান পড়েছে। অভাব দেখা দিয়েছে ডলারের। ফলে ওই দেশের আমদানিকারীরা ডলার না কিনতে পারায় তারা ভারত থেকে পণ্য আমদানি করতে পারছিলেন না। স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে এদেশেও। ডলারের অভাবে বাংলাদেশের আমদানিকারীরা এলসি কিনতে না পারায় এদেশের রপ্তানিকারীরা পণ্য রপ্তানি করতে পারছিলেন না। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ কমে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত সরকার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় অর্থের বিনিময়েও
এলসি কাটা যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে বর্হিঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় মুদ্রাও ব্যবহার করা যাবে।
এই সিদ্ধান্তে ফলে নতুন করে আশার আলো দেখছেন দুই দেশের আমদানি–রপ্তানিকারীরা। ফলে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে বাণিজ্য।

নতুন নিয়মের প্রথম চালানের পণ্য মঙ্গলবার পেট্রাপোল স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে গেল। এব্যাপারে পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তি জানান, প্রথম দিন ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রথম শিপমেন্ট বাংলাদেশে গেল। এখন থেকে নিয়মিতভাবে যাবে। তিনি আরও জানান, পণ্য রপ্তানির জন্য যে ইনভয়েস কাটতে হয়, সেখানে পণ্যের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় কত হচ্ছে, তা এখন থেকে উল্লেখ করা যাবে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ডলারে উল্লেখ করতে হতো। এখন থেকে ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রাতেও এই কারবার চলবে। নতুন এই নিয়মে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হবেন? এই প্রশ্নে পেট্রাপোল এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ দে জানান, ‘অবশ্যই উপকার মিলবে। ডলারের অভাবে গত ৪ থেকে ৫ মাস বাংলাদেশের সঙ্গে বর্হিঃবাণিজ্য অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ভারত সরকার ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রায় এই বাণিজ্য করার ছাড়পত্র দেওয়ায় ফের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে।’‌

এতোদিন শুধুমাত্র ডলারের মাধ্যমে বর্হিঃবাণিজ্যের কাজ হওয়ায় রপ্তানি পণ্যের মূল্যের উপর দুবার কমিশন কাটা যেত। ভারতীয় মুদ্রায় এই কারবার চালু হওয়ায় সেটি একবার কমে যাবে। ফলে আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, এতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সময়ও কম লাগবে। উল্লেখ্য, এর আগে ভারত সরকার রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই ছাড়পত্র দিয়েছে। দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *