প্রতীতি ঘোষ,ব্যারাকপুর, ১৯ এপ্রিল:
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা শুরু হলো পানিহাটি বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল রাতে বিজেপি প্রার্থী এবং স্থানীয় নেতাদের বাড়ির কাছাকাছি ব্যাপক বোমাবাজি হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অন্তত পাঁচটি জায়গায় বোমা ছোড়া হয়েছে। বিজেপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়েও বোমা মারা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

জানাগেছে, গতকাল রাত ১১টা নাগাদ সোদপুর স্বদেশী মোড়ে বিজেপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয় লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। দুবার হামলা চালানো হয় বলে বিজেপির মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত অধিকারী জানিয়েছেন। প্রথম দফায় পাঁচটি বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা, এরপর দ্বিতীয় দফায় আবার দুটি বোমা ছোড়ে। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পানিহাটি বিজেপির প্রার্থী সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই তাঁরা খড়দা থানায় অভিযোগ জানান। বিজেপি নেতা কর্মীরা যখন খড়দা থানায় সেইসময় রাত ১টা নাগাদ, আগড়পাড়ায় বিজেপি প্রার্থী সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও বোমা ছোড়া হয়। বোমার আঘাতে কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙ্গে ঘরের ভিতর ছিটকে পড়ে, জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ির লোকজন।
প্রায় একই সময়ে বিজেপি যুবনেতা জয় সাহার বাড়ির সামনে বোমা ছোড়া হয়। চার নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির মণ্ডল সভাপতির বাড়ি কাছে বোমা ছোড়া হয়। এছাড়া ৬ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির দুই কর্মীর বাড়ির সামনেও পর পর বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতিরা, বলে জনিয়েছেন বিজেপি নেতা বিশ্বজিত অধিকারী।
বিজেপি যুবনেতা জয় সাহার অভিযোগ, নির্বাচনে নিশ্চিত হার জেনে তৃণমূল প্রার্থী নির্মল ঘোষের নির্দেশে এই বোমাবাজি চালায় জনাকয়েক দুষ্কৃতী। তিনি অভিযোগ করেন, পানিহাটিতে দুষ্কৃতীরাজ কায়েম রাখার জন্যই গুন্ডাবাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।
পুলিশ ঘটনাত তদন্তে যাবার পর তাদের উপস্থিতিতেও দুষ্কৃতিরা তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুলিশের উপর আস্থা রেখেই তিনি জানালেন, দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।
ওপর দিকে তৃণমূল নেতা সম্রাট চক্রবর্তীর পাল্টা দাবি, বিজেপি প্রার্থী নিজের হার নিশ্চিত দেখে পানিহাটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। বাইরে থেকে অর্জুন সিংয়ের লোকজন এনে শান্ত পানিহাটিকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা ওই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে রাখছি প্রশাসন এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্বজিত অধিকারী জানিয়েছেন, পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সৈকত দাস নামে একজনকে গ্রেফতার করলেও বাকিদের ধরতে সেভাবে সক্রিয় হচ্ছে না।

