পুরুলিয়ায় কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করল পুলিশ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ নভেম্বর: পুরুলিয়ায় কিশোরীর বিয়ে আটকালো পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়িখানা এলাকায় স্যাকরা পাড়ায়।

পুরুলিয়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়িখানা এলাকায় স্যাকরা পাড়ার বাসিন্দা বাবলু নন্দী, পেশায় রিক্সা চালক। তাঁর ১ মেয়ে ও ২ ছেলে। তারা স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলার জেরেই ভবিষৎ নষ্ট হতে বসেছে তাদের সন্তানদের। মা বাবা আলাদা আলাদা থাকেন। ছোট ২ ছেলে মায়ের সাথে মাসির বাড়িতে শহরের অন্য জায়গায় থাকে। মেয়ে সোনাই (পরিবর্তিত নাম) বাবার কাছে থাকার কথা কিন্তু থাকে ওই এলাকার একটি সেবাশ্রমে। সে পড়াশোনা করে শহরের মুন্সেফডাঙ্গা জুনিয়র হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে, তার বয়স ১৫, তারই বিয়ে ঠিক করেন বাবা বাবলু নন্দী। পাত্র ধীরেন দত্ত বয়স ২২, বাড়ি ঝালদা শহরে পেশায় সবজি বিক্রেতা। বিয়ে হওয়ার কথা আগামীকাল স্যাকরা পাড়াতে। খবর পেয়ে চাইল্ড লাইনের সদস্যরা পুরুলিয়া সদর থানায় যোগাযোগ করেন। শনিবার সকালে চাইল্ড লাইনের সদস্যরা পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশকে নিয়ে সোনাইয়ের বাড়িতে গিয়ে এই বিয়ে বন্ধ করে দেয়। বাবা বাবলু নন্দীর কাছে লিখিত নেওয়া হয়।

মা সীমা নন্দী বলেন, তাঁর স্বামীর অত্যাচারে এখানে থাকতে পারি না। মেয়েকে নিয়ে গেলেও সে তার মাসির বাড়িতে থাকতে চায় না। তাই বিয়ে ঠিক করেছিলাম। এখন আর বিয়ে দেব না।

বাবা বাবলু নন্দী বলেন, মেয়েকে মারধর করা হয় না, বকাবকি করলে চলে যায়। ভালো ছেলে পেয়েছিলাম। এখন আর বিয়ে দেব না। ১৮ বছর পার করেই মেয়ের বিয়ে দেবো।

সোনাই জানায়, কী খাচ্ছি না খাচ্ছি কেউ খোঁজ রাখে না। বাবা অশান্তি করে, মা চলে যায়। আমি মাসির বাড়িতে থাকতে পছন্দ করি না। আমি তাই গুরু মায়ের কাছে থাকি।কেউ আমার খোঁজ রাখে না, তাই ভালো ছেলে বলে বিয়েটা মেনে নিয়েছিলাম।

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ঠিক না থাকায় একটি ফুটফুটে মেয়ের জীবন নষ্ট হতে যাচ্ছিল, যদি না সময় মতো পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের সদস্যরা তৎপরতা দেখাতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *